সাবমেরিন ও ক্যাবলের নিরাপত্তায় মহেশখালীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়নের কাজ চায় নৌবাহিনী
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও চায়না হুয়াদিয়ান হংকং লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত বে অভ বেঙ্গল পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের পরিকল্পিত ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভূমি উন্নয়নের কাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনী করতে চায়।
নৌবাহিনীর সাবমেরিনের চলাচল ও সমুদ্রের গভীরে থাকা সাবমেরিন ক্যাবলের নিরাপত্তার স্বার্থে সংস্থাটি এই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে বিপিডিবির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৪০০ একর জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। এজন্য ৮ মিলিয়ন ঘনমিটার জায়গা ভরাট করতে হবে। এতে খরচ হবে ৪০ মিলিয়ন ডলার।
তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি উন্নয়ন কাজ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বে অব বেঙ্গল পাওয়ার কোম্পানি।
এই কোম্পানির অংশীদার বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম টিবিএসকে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূমি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। 'আগামী ১৭ জানুয়ারি এই প্রকল্পের বিষয়ে একটি মিটিং রয়েছে। ওই মিটিংয়ের পরে প্রকল্পটি নিয়ে বিপিডিবির অবস্থান, পরিকল্পনা জানানো যাবে,' বলেন তিনি।
প্রকল্পটি নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কোনো উদ্বেগ রয়েছে কি না, জানতে চাইলে পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পটি কোনো পক্ষের উদ্বেগের বিষয় হওয়ার কথা নয়। 'মহেশখালীকে বিদ্যুৎ হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের বেশ আগে থেকেই আছে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বে অভ বেঙ্গল পাওয়ার কোম্পানি এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে,' বলেন তিনি।
বিপিডিবির কাছে করা নৌবাহিনীর আবেদনের কপি টিবিএসের হাতে এসেছে। আবেদনে নৌবাহিনী বলেছে, প্রকল্প এলাকার নিকটবর্তী সমুদ্রপথে নৌবাহিনীর সাবমেরিন চলাচল রয়েছে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে ভূমি উন্নয়নের সময় তাদের জাহাজের সঙ্গে সাবমেরিনের সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকতে পারে। প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি সমুদ্রে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেবল রয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠান কাজ করলে ভূমি উন্নয়নের সময় তাদের জাহাজে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য ভূমি উন্নয়নের কাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দিয়ে করানো উচিত বলে মনে করে সংস্থাটি।
আবেদনে এই কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নৌবাহিনীর ব্যয় অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম হবে। নির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক সময়সীমার মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। অর্থ পরিশোধ স্থানীয় মুদ্রায় করা হবে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এছাড়া স্থানীয় নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যাবে।
বে অভ বেঙ্গল পাওয়ার কোম্পানি ইতিমধ্যে মহেশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি এই ১৬০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যা মাতারবাড়ি গ্রিড সাবস্টেশনের সাথে সংযুক্ত হবে।
