২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি: আনিসুল ও তার পিএস তৌফিকাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
প্রায় ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) তৌফিকা করিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন মো. রাশেদুল কাওসার ভুইঞা জীবন ও মো. কামরুজ্জামান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পিএস তৌফিকা করিম, মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবন ও মো. কামরুজ্জামান পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গঠন করেন। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লক্ষ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলার অন্যতম আসামি মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তিনি তৌফিকা করিমের ল' ফার্ম 'সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটস'-এর সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তি সম্পাদন করে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত অর্থ স্থানান্তর করতেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পলাতক হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শুধুমাত্র ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই এই চক্রটি মোট ১০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আদায় করেছে। এছাড়া তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও আরও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, আনিসুল হক আইনমন্ত্রী থাকাকালে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও রাশেদুল কাওসার ভুইঞা জীবনকে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। একই সময়ে তারা 'লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স' নামক একটি এনজিও গঠন করেন।
ওই এনজিওর চেয়ারম্যান ছিলেন তৌফিকা করিম, সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন রাশেদুল কাওসার জীবন এবং আনিসুল হক নিজে ছিলেন ট্রেজারার।
অভিযোগ রয়েছে, এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি-র সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত একটি হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হতো। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই এনজিওর অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ২৪ কোটি ৫৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ২১ টাকা চাঁদা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এই সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে।
সিআইডি আরও জানায়, অনুসন্ধান চলাকালে তৌফিকা করিমের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মোট ২৬টি হিসাব নম্বরে জমাকৃত ২৪ কোটি ৫৩ লক্ষ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ঢাকা মহানগর স্পেশাল জজ আদালতের আদেশে ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, চক্রের অজ্ঞাত সদস্যদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
