রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার নিলি (১৭) নামের এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোডের এল ব্লকের ২/১ নম্বর 'প্রীতম ভিলা' থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফাতেমা আক্তার নিলি হবিগঞ্জের লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজিব মিয়ার মেয়ে। তিনি তার পরিবারের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন।
ডিএমপির খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে যেকোনো সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের বড় বোন শোভা জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গত বুধবার তাদের বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে যান। বাসায় তিনি ও তার ছোট বোন নিলি ছিলেন।
শনিবার দুপুরে শোভা পাশের একটি জিমে যান। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাসায় ফিরে তিনি দেখেন গেট খোলা এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে বাসার ভেতরে ঢুকে দেখেন রান্নার চুলা ও ভাতের হাঁড়ি নিচে ফেলে রাখা হয়েছে এবং ওয়ারড্রোবসহ অন্যান্য আসবাবপত্র অগোছালো।
শোভা বলেন, 'একপর্যায়ে রান্নাঘরের বেসিনের নিচে কাঠ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নিলিকে কাচুমাচু হয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তার গলায় রশি ও হিজাব পেঁচানো ছিল। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় ফরাজি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে দেখি তার গলা কাটা।'
হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাদের হোটেলের এক কর্মচারীর ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন শোভা। তিনি জানান, তাদের পরিবারের একটি হোটেল রয়েছে যা বর্তমানে বন্ধ থাকায় কর্মচারীরা সবাই বাড়ি চলে গেছে। তবে মিলন নামের এক কর্মচারী গত দুই দিন ধরে তাদের বাসায় খাবার খাচ্ছিল। প্রথম দিন নিলির সঙ্গে মিলনের কথা কাটাকাটি ও খারাপ আচরণ হয়েছিল। শনিবারও মিলন দুপুরের খাবার খেয়ে শোভার সঙ্গেই বাসা থেকে বের হয়েছিল।
শোভার ধারণা, মিলনই বটি দিয়ে নিলিকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তিনি জানান হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা বটিটি পাশের একটি রুমের খাটের ওপর পাওয়া গেছে।
