ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা: ২০০ টাকা মুচলেকায় হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদীর জামিন
পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা এবং এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মারার মন্তব্য করে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। ২০০ টাকা মুচলেকা দিয়ে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে হবিগঞ্জের বিচারিক হাকিম আব্দুল মান্নানের আদালত থেকে তিনি জামিন লাভ করেন।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম মাহদী হাসানের জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আজ শনিবার সকাল সাতটার দিকেই মাহদী হাসানকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। তার আইনজীবী আব্দুল মালেক হৃদয় জানান, শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে (পুলিশ অ্যাসল্ট) একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার অধিকাংশ ধারা জামিনযোগ্য হওয়ায় আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলা ডিবি পুলিশ শহরের শায়েস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে মাহদী হাসানকে আটক করে। পরে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন আখতার তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
মাহদী হাসানকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তার মুক্তির দাবিতে শনিবার রাতভর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানার সামনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। এমনকি রাজধানীতেও এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাহদীর জামিন নিয়ে রাতভর নানা নাটকীয়তা চলে। আন্দোলনের মুখে শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত না বসায় রাতে তার জামিন হয়নি। আজ সকাল পর্যন্ত নেতা-কর্মীরা হবিগঞ্জ সদর থানার প্রধান ফটকে অবস্থান করছিলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তাদের জানানো হয়েছিল যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহদীকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন।
বানিয়াচংয়ের ঘটনা নিয়ে মাহদীর আলোচিত মন্তব্যের বিষয়ে আরিফ তালুকদার বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনা কোনো মামলার বিষয় হতে পারে না, এটি জুলাই প্রক্লেমেশনের (জুলাই ঘোষণা) অন্তর্ভুক্ত।'
সম্প্রতি শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে বসে মাহদী হাসানের একটি কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, 'বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।'
এই মন্তব্যের পরই দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে মামলা দায়ের করা হয়। তবে আজ আদালতের মাধ্যমে জামিন পাওয়ায় আপাতত কারামুক্ত হলেন তিনি।
