প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হচ্ছে কাল, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি ইসিতে আপিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম শেষ হচ্ছে আগামীকাল রবিবার। দেশের ৩০০ আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চলমান এই বাছাই শেষে মোট বৈধ ও বাতিল মনোনয়নপত্রের সংখ্যা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ০৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে শনিবার (৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেছেন, 'কোনো প্রার্থীর প্রতি অবিচার হলে আপিল প্রক্রিয়ায় তা সংশোধন করা হবে।'
তিনি বলেন, 'রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেসব কারণে মনোনয়ন বাতিল করেছেন, আপিলে সেগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। যদি দেখা যায় বাতিলের কারণ সঠিক নয়, তাহলে আইন অনুযায়ী মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে।'
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তথ্য না পাওয়ার কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাহলে আপিল শুনানিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।'
উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারের নির্বাচনের জন্যও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিশেষ এজলাস এবং বুথ স্থাপন করা হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনাররা সেখানে আপিল শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেবেন।
তফসিল অনুযারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, ঢাকা মহানগরের ২০টি সংসদীয় আসনে মোট ২৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬১ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, ৮১ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং একজনের মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। একজন প্রার্থী ইতোমধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
ঢাকার ১ থেকে ১৫ নম্বর আসনের মধ্যে অন্তত ৬২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনে ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুরাদ হোসেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো. শাহাবুদ্দিন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া।
পেশাগত তথ্য ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের পর মামুনুল হক ও ববি হাজ্জাজের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
এই আসনে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো. রবিউল ইসলাম (১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল), গণঅধিকার পরিষদের মিজানুর রহমান (হলফনামা ও ফরম-২০ এ স্বাক্ষর না থাকা), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখার (মনোনয়নপত্রের তৃতীয় অংশে স্বাক্ষর না থাকা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. খালেকুজ্জামান এবং আমজনতার দলের রাজু আহমেদ (সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়া)।
ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির মো. শফিকুর রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে সিপিবির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এ আসনে মোট ৯জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ, তিনজনের বাতিল এবং একজনের মনোনয়নপত্রের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এবিষয়ে ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী আজ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের লিখিত আদেশের কপি দেওয়া হচ্ছে। ওই রায়ের কপি সত্যায়িত করে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা হবে।'
তিনি বলেন, 'স্বাক্ষরের ঘাটতি, আয়কর দাখিলের রশিদ না থাকা বা সর্বশেষ করবর্ষের সনদ সংযুক্ত না থাকায় অনেক মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে এসব ত্রুটি আইন অনুযায়ী সংশোধনযোগ্য হলে আপিলে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।'
ইসির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের ৩০০ নির্বাচনি এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৯টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্তভাবে কতগুলো মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আসন্ন জাতীয় সংসদ ও গণভোটের জন্য মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বাছাইতে কারো মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বা অন্য কারো মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিষয়ে আপত্তি থাকলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ইসিতে আপিল করতে হবে। এই আপিল করার সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি ) এ-সংক্রান্ত বিধিমালা জারি করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে পূর্বে জারি হওয়া পরিপত্র-২ এর দফা-১৯ অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
