কেরানীগঞ্জের সেই মাদরাসায় ফের বিস্ফোরণ, আহত ১
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার সেই মাদরাসায় ফের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে রাজু নামের এক শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত উম্মুল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা পরিষ্কারের সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণে রাজু নামের ওই শ্রমিক পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম।
তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'বুধবার দুপুরে মাদরাসা ভবনের মালিক পারভিন বেগম শ্রমিক রাজুকে সঙ্গে নিয়ে ভবনের ভেতরে ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল পরিষ্কার করছিলেন। এ ভেজা কেমিকেল শুকিয়ে পায়ের ঘর্ষণে বিস্ফোরণ ঘটে।'
তিনি বলেন, 'তবে বিস্ফোরণে মাত্রা খুবই সামান্য ছিল। এতে রাজু পায়ে সামান্য আঘাত পায়। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।'
তিনি আরও জানান, 'অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) ভবনটি পরিদর্শন করবে। তাই সেটি পরিষ্কার না করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু ভবন মালিক কাউকে কিছু না জানিয়ে ভবনটি পরিষ্কার করতে যান।'
উল্লেখ্য, গত ২৬ ডিসেম্বর সকালে হাসনাবাদ হাউজিং এলাকার ওই মাদরাসায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ভবনের দেয়াল ও ছাদের অংশ বিধ্বস্ত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
দুই দিনব্যাপী অভিযানে সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিট, এন্টি টেররিজম ইউনিট, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ লিটার তরল রাসায়নিক (হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, এসিটোন, নাইট্রিক এসিড), ৯টি তাজা ককটেল এবং বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক ইসলাম লিটন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে মাদরাসা পরিচালক ও মামলার মূল হোতা শেখ আল আমিন এখনও পলাতক রয়েছেন।
