খুলনা-১: জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দীর বিপক্ষে লড়বেন আরও ৭ হিন্দু প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা -১ আসনে জয়ের কৌশল হিসেবে একজন সনাতন ধর্মালম্বী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। তবে মনোনয়নপত্র জমাদানে দেখা গেছে, একই আসনে কৃষ্ণ নন্দীর বিপক্ষে আরও সাতজন হিন্দুপ্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ফলে ওই আসনে ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
মনোনয়ন জমাদানের শেষ তারিখ ছিল গতকাল সোমবার, তাই দিনব্যাপী বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেন। তাতে দেখা গেছে, এই আসনে মোট মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১৩ জন। এই ১৩ জনের মধ্যেই ৮ জন রয়েছেন হিন্দু প্রার্থী। মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, এই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার।
এসব প্রার্থীরা হলেন—ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায়, জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায়, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত, স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার, বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায়, স্বতন্ত্র অচিন্ত্য কুমার মন্ডল ও বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত রায়।
এ ছাড়া ওই আসনে পাঁচ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন– জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু সাঈদ, বিএনপির আমীর এজাজ খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরাজুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান।
তবে এই ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান, বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র গোবিন্দ হালদার, ইসলামি ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় ও জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে এলাকায় সরব রয়েছেন।
এত প্রার্থীর মধ্যেও নিজের বিজয় নিয়ে আশাবাদী রয়েছেন কৃষ্ণ নন্দী। তিনি বলেন, "যেদিন মাঠে নেমেছি, সেদিন থেকে আমার পক্ষে ব্যাপক জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী দলের প্রার্থী হওয়ায় আমি হিন্দু ভোটের পাশাপাশি মুসলিম ভোটও পাব। তাই অন্য প্রার্থীদের থেকে আমি ভোটে এগিয়ে থাকব।"
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখনকার খুলনা-১ আসনটি খুলনা-৫ নামে ছিল। পৃথক হওয়ার পর থেকে আসনটিতে বেশিরভাগ সময় সংখ্যালঘু প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। এই আসনে প্রথম এমপি হন কুবের চন্দ্র বিশ্বাস। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পান প্রফুল্ল কুমার শীল।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জেতেন প্রফুল্ল কুমার মণ্ডল। ১৯৯৬ সালে জয়ী হন শেখ হাসিনা। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান শেখ হারুনুর রশিদ। কিন্তু সংখ্যালঘু প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাসের কাছে হেরে যান। যদিও পঞ্চানন বিশ্বাস আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে শপথ নেন। ২০০১ সালে আবার জয়ী হন পঞ্চানন বিশ্বাস। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবার এমপি হন পঞ্চানন বিশ্বাস। ২০২৪ সালে জয়ী হন ননী গোপাল মণ্ডল।
বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসন আওয়ামী লীগের 'ঘাঁটি' হিসেবে পরিচিত। এ আসনে ১৯৯১ সালের পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কখনো জেতেনি। একসময় বাম দলের প্রভাব থাকলেও জামায়াতের অবস্থান সবসময় দুর্বল ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেড়েছে।
