জানাজা দুপুর ২টায়, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত হবেন খালেদা জিয়া
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার নামাজ আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর সাড়ে ৩টায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন স্থানে বুধবার দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হবে।
খালেদা জিয়ার দাফনের সময় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সেইসঙ্গে দাফনে উপস্থিতদের কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আগামীকাল বুধবার এক দিনের সাধারণ ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোসহীন নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়। ধর্ম উপদেষ্টা আফম খালিদ হোসেন মোনাজাত পরিচালনা করেন।
সভায় বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাবটি পাঠ করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।
রাষ্ট্রীয় শোক পালনকালে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।
আগামীকাল দেশের প্রতিটি মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিদেশে বাংলাদেশের সব মিশনে শোক বই খোলা হবে।
বিশেষ আমন্ত্রণে সভায় অংশ নেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তাসহ সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনসংক্রান্ত সব বিষয়ে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, 'আজ গভীর শোকের সময় আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। পুরো জাতি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করছিল, যাতে তিনি আমাদের সঙ্গে আরও অনেক বছর থাকেন। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং জাতির পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। তাঁর জানাজা ও দাফনের জন্য যা যা প্রয়োজন, সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।'
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, 'সর্বশেষ ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে তার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সেদিন তিনি খুব উৎফুল্ল ছিলেন। নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সবার সুস্থতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার উপস্থিতি আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল। তার চলে যাওয়া জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।'
