তারেক রহমানের ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিএনপি, জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার প্রস্তুতি চলছে
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে আগামীকাল দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
সারাদেশের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি ও সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস ভাড়া করছেন। বিএনপি নেতাদের আশা, রাজধানীর চারদিক থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামবে।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক করে তুলতে কোনো প্রস্তুতির কমতি রাখছে না দলটি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ও উদ্দীপনা স্পষ্ট।
যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং ঢাকা মহানগরের নেতাদের নিয়ে শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সারাদেশে প্রস্তুতি সভা ও স্বাগত মিছিল চলছে। নেতাকর্মীদের যাতায়াতের জন্য ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন বুকিং দেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে সিলেট হয়ে তিনি ঢাকায় আসবেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সেখান থেকে বনানী ও কাকলী হয়ে সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় সংবর্ধনা স্থলে যাবেন তিনি।
সংবর্ধনার মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠান শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। পরে গুলশানে মায়ের বাসভবনে যাবেন।
'সংবর্ধনায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে': রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও সংবর্ধনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।
তিনি বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের আসা দেখতে পাচ্ছি। ওই দিনটি বিশাল জনসমাবেশ ও উৎসবে পরিণত হবে।' তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলেও, দলও নিজস্ব ব্যবস্থা নেবে।
প্রস্তুত হচ্ছে মঞ্চ
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিশাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী ৩০০ ফিট সড়কের একটি অংশজুড়ে এই মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। আজ রাতের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
মঞ্চটি ৪৮ ফুট দীর্ঘ, ৩৬ ফুট প্রশস্ত এবং সড়ক থেকে ৮ ফুট উঁচু হবে। রাজধানীতে প্রায় ৯০০টি মাইক স্থাপন করা হবে। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে আব্দুল্লাহপুর, বনানী, মহাখালী, যমুনা ফিউচার পার্ক হয়ে ৩০০ ফিট সড়ক ধরে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এসব মাইক বসানো হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় থাকবে।
আগের যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাদের জন্য মঞ্চে নির্ধারিত আসন রাখা হবে। জানা গেছে, দলীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। মূল বক্তব্য দেবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অথবা তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঞ্চ দেখতে উৎসুক জনতা
মঞ্চ নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উৎসুক হয়ে সেখানে ভিড় করছেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের হাতে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। তারা স্লোগান দিচ্ছেন।
নওগাঁ থেকে সোমবার ঢাকায় আসা ইদ্রিস আলী বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত থাকবেন। তিনি বলেন, 'আমরা তারেক রহমানকে ভালোবাসি, বিএনপিকে ভালোবাসি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন।'
বিমানবন্দরে প্রবেশের বিধিনিষেধ
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সহযাত্রী ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
এছাড়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা, বিমান চলাচলের রুট, প্রশিক্ষণ, উড্ডয়ন ও অবতরণ এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।
প্রস্তুত থাকবে মেডিকেল টিম
অনুষ্ঠানকালে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে বিএনপি মোবাইল মেডিকেল টিম গঠন করেছে।
দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩০টি মোবাইল মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। বিমানবন্দর ও ৩০০ ফিট এলাকার আশপাশের হাসপাতালগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হবে।
ঢাকামুখী জনস্রোত
সারাদেশ থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকামুখী হচ্ছেন। প্রতিটি বিভাগ থেকে তিন থেকে চার লাখ এবং প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষ ঢাকায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, কৃষক দল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলও ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুলেটপ্রুফ গাড়ি
তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য বিএনপির কেনা একটি বুলেটপ্রুফ বাস রোববার চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়ে সোমবার ঢাকায় পৌঁছেছে।
সংবর্ধনার অনুমতি
তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের লিখিত অনুমতি পেয়েছে বিএনপি।
১০ রুটে বিশেষ ট্রেন
বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০টি রুটে বিশেষ ট্রেন চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি নিয়মিত ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে।
এসব বিশেষ ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচে যাতায়াতকারী দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি–২০২৫ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
