‘ভেতরে আটকে আছি; আপনারা মেরে ফেলছেন’: ডেইলি স্টার কার্যালয়ে আগুন, কর্মীদের বিভীষিকাময় রাত
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দ্য ডেইলি স্টার ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক বিভীষিকাময় রাত পার করেছেন পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা।
ডেইলি স্টারের সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, 'আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারপাশে প্রচুর ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি। আপনারা আমাকে মেরে ফেলছেন।'
পত্রিকাটির প্রধান প্রতিবেদক পার্থ প্রতিম ভট্টাচার্য লেখেন, 'আমি প্রার্থনা করি, এমন দিন যেন আমার জীবনে আর কোনোদিন ফিরে না আসে। আমি মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি। সবার জন্য শুভকামনা।'
এদিকে পত্রিকাটির সিনিয়র সাব-এডিটর নাজিবা বাশের ফেসবুকে লেখেন, 'মা, আমি বাসায় পৌঁছেছি। তুমি এখন ঘুমাতে পারো—অবশেষে এই কথাটি বলতে পারলাম।'
আজ শুক্রবার ভোরের দিকে তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর আজ (১৯ ডিসেম্বর) মধ্যরাতের পর বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ফার্মগেটের কাছে অবস্থিত ডেইলি স্টার কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তেজগাঁও ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় রাত ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
রিপোর্টার মাহমুদ হাসান জানান, ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে ডেইলি স্টারের সব কর্মীকে সফলভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মাহমুদ হাসান তার একটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসকে ধন্যবাদ। বিশেষ ধন্যবাদ জানাই সেনাবাহিনীর একজন মেজরকে, যার আজকের বীরত্ব ছিল কাজী আনোয়ার হোসেনের সৃষ্ট মাসুদ রানা সিরিজের কাল্পনিক নায়ক মেজর রানা-এর মতো। তিনি এই উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন।'
