রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের ওপর নজর রাখা এখন ইসির বড় দায়িত্ব: জেসমিন টুলী
রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের ওপর নজর রাখা এখন ইসির বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী।
তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের ওপর নিবিড় নজর রাখা এখন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বড় দায়িত্ব। যেন কোনো দলই এমন কিছু না করে, যা নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।'
আজ (১১ ডিসেম্বর) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- তিনি বলেন, 'সবচেয়ে ভালো লাগছে যে এতদিন আমাদের মনে প্রশ্ন ছিল আসলে নির্বাচন হবে কি না। এখন অন্তত আমরা নিশ্চিত হতে পারছি যে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এতে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে নির্বাচন হচ্ছে এবং তফসিলটাও কমিশন খুব সুন্দরভাবে ঘোষণা করেছে।'
তিনি বলেন, 'বাছাইয়ের সময় এবার বেশ লম্বা রাখা হয়েছে। এটি আমাদের সংস্কার কমিশনেরও সুপারিশ ছিল, যেন প্রার্থীরা হলফনামা এবং নথিপত্রগুলো যথাযথভাবে যাচাই–বাছাই করার সুযোগ পান। বাছাইয়ের জন্য সময় বাড়ানো সত্যিই ইতিবাচক।'
তিনি আরও বলেন, 'এরপর আছে আপিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, আর তারপর প্রচার–প্রচারণার জন্যও যথেষ্ট সময় রাখা হয়েছে। প্রত্যাহারের পর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেটি মাথায় রেখেই কমিশন প্রচারণার সময়টিও বাড়িয়েছে।'
জেসমিন টুলী বলেন, 'আরেকটি ক্ষেত্র খুব গুরুত্বপূর্ণ—এবার একই সঙ্গে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় প্রচুর ব্যালটপেপার মুদ্রণ করতে হবে। প্রায় ২৫ কোটি ব্যালট পেপার ছাপাতে হবে। সময় প্রয়োজন হবে। এ কারণেও সময় ব্যবস্থাপনা খুব জরুরি ছিল। কমিশন এই বিষয়টি মাথায় রেখে তফসিল ঘোষণা করেছে বলে আমার মনে হয় খুবই সুচিন্তিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
জেসমিন টুলী বলেন, 'ইসিকে এখন মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে তারা কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার মতো কোনো আচরণ না করে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে ভোটারের প্রতি আস্থা রাখা।ভোটারের ভোটেই যে জয়–পরাজয় নির্ধারিত হবে, সেটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।'
ভোটগণনা
তিনি বলেন, 'এবার গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু'টি ব্যালট থাকবে। তাই ব্যালটবাক্সে একসঙ্গে দুটি ব্যালট রাখা এবং পরে দ্রুত ও সঠিকভাবে গণনা করা—এটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রার্থীরা সাধারণত ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফল জানতে চান। তাই কমিশনের উচিত হবে যত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে গণনা করা যায়, সে বিষয়ে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া। আমার বিশ্বাস, কমিশন এই জায়গাটিতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেবে।'
