ইইউর ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্র–সংক্রান্ত তথ্য আদান–প্রদানের নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) মনোনীত করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এমন একটি প্ল্যাটফর্মে আরও বড় ভূমিকা পেল, যা ইতোমধ্যে ৫৭ দেশের ১৫০টিরও বেশি সংস্থার একটি বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।
ইইউ–এর সিআরআইএমএআরআইও কর্মসূচি ইন্দো–প্যাসিফিক রিজিওনাল ইনফরমেশন শেয়ারিং (আইওরিস) প্ল্যাটফর্মকে সমুদ্র–নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপদ অপারেশনাল সমন্বয়ের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থায় পরিণত করছে। সিপিএ–এর দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় ঘটনা প্রতিবেদন, জাহাজ ট্র্যাকিং, ভূ–স্থানিক বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে জলদস্যুতা, চোরাচালান, অবৈধ বা অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, সামুদ্রিক দূষণ ও সাগর–উদ্ধার অভিযানের যৌথ সাড়া দেওয়া—সবকিছুই সমর্থিত হয়।
সমুদ্রসীমা নিয়ে দায়িত্ব পালনের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্যোগে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে সংস্থাগুলোকে সমন্বয় করার ক্ষমতা এবং আধুনিক তথ্য–আদানপ্রদানের নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা সামলাতে সক্ষমতা—এ দুটি বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় সিপিএকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর সবচেয়ে দৃশ্যমান দৃষ্টান্ত ছিল ২০২৫ সালের মার্চে সিপিএ আয়োজিত আন্তঃসংস্থা আইওরিস প্রশিক্ষণ, যেখানে দেশের প্রধান প্রধান সমুদ্র–সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একত্র করা হয়েছিল—যা জাতীয় পর্যায়ে গভীরতর সংযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করে।
চলতি বছরের ১৮–২০ নভেম্বর ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আইওরিস পলিসি বোর্ডের তৃতীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সিপিএ। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সমুদ্র–শাসন ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশ আরও সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ইইউ একটি একক জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের ফলে বাংলাদেশি সংস্থাগুলোর আইওরিস ব্যবহারের প্রক্রিয়া এখন আরও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, মৎস্য সংস্থা এবং জরুরি–সাড়াদানকারী ইউনিটগুলো এখন একই চ্যানেলে কাজ করতে পারবে—যা বঙ্গোপসাগরে পরিস্থিতিগত সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং সমুদ্রে যেকোনো দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা হুমকির ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনবে।
ইইউ কর্মকর্তারা মনে করেন, ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্র–নিরাপত্তায় সহযোগিতা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, যেখানে তথ্য–শেয়ারিং এবং সমন্বিত পরিকল্পনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশের এই সম্পৃক্ততা সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতার অংশ।
বাংলাদেশের জন্য এ মনোনয়ন সক্রিয় সমুদ্র তীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সুনীল অর্থনীতির কার্যক্রম জাতীয় স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।
