চট্টগ্রামে ৮ দলের বিভাগীয় সমাবেশ ৫ ডিসেম্বর, থাকবেন শীর্ষ নেতারা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন, জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, আওয়ামী লীগের গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার এবং আওয়ামী লীগের সকল অপকর্মের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশ ডেকেছে সমমনা ৮টি রাজনৈতিক দল।
আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বাদ জুমা শুরু হওয়া এ সমাবেশে আট দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আট দলের নেতৃবৃন্দ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর জান্নাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ ডিসেম্বরের সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য রাখবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ শাহাজাহান বলেন, 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান আদেশ) ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণের আগে জনগণের মতামতই হবে সর্বোচ্চ প্রাধান্য। তাই জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন শুধু রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি জাতীয় আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কার বাস্তবায়নের বাস্তব প্রতিফলন। গণভোট ছাড়া নির্বাচন হলে কোনোভাবেই জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতিফলন হবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছিল, গুম-খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল এবং গণহত্যা চালিয়েছিল। এসবের বিচার দৃশ্যমান না হলে দেশে স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। আমরা চাই নির্বাচন হোক এমন পরিবেশে যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে, থাকবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। জনগণ চাইলে ক্ষমতায় যাবে, না চাইলে যাবে না—এটাই গণতন্ত্র।'
স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের অবৈধ রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'দেশের রাজনীতি শুদ্ধ করতে হলে এদের অপতৎপরতার অবসান ঘটাতে হবে। বাংলাদেশকে সত্যিকারের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে ৮ দলের পাঁচ দফা একটি যৌক্তিক আন্দোলন। চট্টগ্রামবাসী আগামী ৫ ডিসেম্বর সেই আন্দোলনের সমাবেশে যোগ দিয়ে সমাবেশ সফল করবেন।'
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আমীর মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি অধ্যাপক খুরশিদ আলম, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম আমীর মাওলানা জিয়াউল হোছাইন, জাগপার চট্টগ্রাম নগর সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ আনাস ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মোতালেব প্রমুখ।
