প্রশাসনকে বলব নিরপক্ষে নির্বাচন দিন, অন্যায় করলে পালানোর পথ পাবেন না: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অতীতের মতো অন্যায় করলে এবার পালানোর পথ পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, 'আগে যারা দলের পক্ষে কাজ করেছে, সেই ওসি, পুলিশ, এসপিরা সব পালিয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতি পালিয়ে গেছে, বায়তুল মোকাররমের খতিব পালিয়ে গেছে, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার পালিয়ে গেছে। আপনাদের বিরুদ্ধেও যদি সেই অভিযোগ আসে আপনারা কিন্তু এবার পালানোর পথ পাবেন না। নিরপেক্ষভাবে সব দলকে সমান অধিকার দিয়ে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।'
শনিবার সকালে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে এক নির্বাচনী শোভাযাত্রার আগে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, 'প্রশাসনকে আমি নিরপেক্ষ থাকতে বলবো।… আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ নিরপেক্ষ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে ব্যাপকভাবে দাবি করেছি, নির্বাচন কমিশনে আমরা অনেক পরামর্শ দিয়ে এসেছি। এবারের নির্বাচন যদি ১৪, ১৮, ২৪-এর মত নির্বাচন হয় জাতির ভাগ্যে দুর্ভোগ নেমে আসবে।'
'ভোট কেন্দ্রগুলো পাহারা দেবেন। ভোটারদের যেন ভয়ভীতি কালো টাকা দিয়ে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করা না হয়। প্রত্যেক দল এবং প্রার্থী সমান সুযোগ দিয়ে যেন নির্বাচনী কাজ করতে পারে', আরও বলেন তিনি।
পরিবর্তনের ডাক দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, 'মানুষ পরিবর্তন চায়। ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম করতে পারছি। জনগণ শান্তির বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'
তিনি দাবি করেন, 'নতুন প্রজন্মের মধ্য থেকেই পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন প্রজন্ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তন এনেছে। তারা ৫৪ বছরের অপশাসনের দেশকে বদলে দিয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় জাতি আগামী নির্বাচনেও দেশে একটি পরিবর্তন আনবে।'
নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অনলাইনে দেখতে পাচ্ছি, অনেক দলে মনোনয়ন আনার জন্য ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যারা এত টাকা খরচ করে মনোনয়ন আনেন, তারা জিতে এসে হাজার কোটি টাকা উঠাবে।'
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, 'আপনারা কি দুর্নীতির সুযোগ দেবেন? টাকায় হাটবাজারে গরু-ছাগল কেনা যায়, কিন্তু মানুষের বিবেক কেনা যায় না।'
পথসভা শেষে জিরো পয়েন্ট থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, চুকনগরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শিরোমণি শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। হরিণটানা থানা আমীর জি এম আব্দুল গফুরের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু ইউসুফ, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ।
