জাতীয় ও শ্রমিক স্বার্থ সমন্বয় ও জনগণকে অবহিত করেই চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করতে হবে: জামায়াত নেতা নজরুল
জাতীয় ও শ্রমিক স্বার্থ সমন্বয় করে জনগণকে অবহিত করেই চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
রোববার (০৯ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব বিষয় উল্লেখ করেন। নগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের দায়িত্বশীল মোহাম্মদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত "চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীরের বিবৃতি" শীর্ষক এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া পাঠানো হয়।
এর আগে গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত জামায়াত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের এক সমাবেশেও একই দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে নজরুল ইসলাম বলেন, "বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরটির ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণ, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির সমন্বয় সাধন এবং সর্বোপরি আন্তর্জাতিক দরপত্রের নীতিমালা অনুসরণ করে জনগণকে অবহিত করেই চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন, "কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ সহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইন বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর আলোকে চট্টগ্রাম বন্দরসহ অন্যান্য বন্দরের শ্রমিক নিয়োগ, মজুরি, নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন, ক্ষতিপূরণ এবং কর্মপরিবেশসহ এবং সামগ্রিক শ্রম-ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলিকে সুন্দরভাবে সমন্বয় না করলে শ্রম অসন্তোষ এবং অচলাবস্থা সৃষ্টির দায় কে নেবে?
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল নামে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদী হয়েছে। দেশীয় শ্রমিক ছাঁটাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে তারা সরব হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন তো শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ের আইনগত কাঠামো; এটাকে রুদ্ধ করা তো সঠিক হবে না।
তিনি বলেন, "বন্দরকে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখা এবং প্রয়োজনে প্রকাশ্য দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের দাবিকে পাশ কাটানোর সুযোগ নেই। দেশের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্ব সংরক্ষণের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছদ্মাবরণে রাজনৈতিক গোলামী মেনে নেওয়ার মতো আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।"
তিনি আরো বলেন, তাই জাতীয় ও শ্রমিক স্বার্থ সমন্বয় করে জনগণকে অবহিত করেই চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ বিষয়ে শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।
