ঢাকায় অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে ফৌজদারি কার্যবিধির ১১০ ধারা প্রয়োগ করা হবে: জেলা প্রশাসক
ঢাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১১০ ধারা প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা প্রশাসক তানভীর আহমেদ।
রোববার (৫ অক্টোবর) এক খুদে বার্তায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, কুখ্যাত ও অভ্যাসগত অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে এই বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক বলেন, 'কুখ্যাত এবং অভ্যাসগত অপরাধীদেরকে অপরাধ থেকে বিরত রাখার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১১০ ধারায় বিধান রয়েছে। কিন্তু এই বিধানটির প্রয়োগ সচরাচর কম দেখা যায়। ঢাকা জেলা প্রশাসন অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনে এই বিধানের কার্যকর প্রয়োগ করবে।'
তিনি আরও বলেন, 'সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ এসব ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চেয়ে জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে। আপনাদের কাছে যদি কোনো এলাকার কুখ্যাত ও অভ্যাসগত অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য থাকে—যাদেরকে শান্তিরক্ষার মুচলেকায় আবদ্ধ করলে সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তা সহায়ক হবে বলে মনে করেন—তাহলে তাদের নাম, ঠিকানা ও অনিয়ম-অপরাধের তথ্যসহ আমাকে [জেলা প্রশাসক] বা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানোর অনুরোধ রইল।'
ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক সূত্র জানায়, অনেক সময় নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বড় অপরাধী বা এলাকার ত্রাস সৃষ্টিকারীরা আইনের ফাঁক-ফোকরে বেরিয়ে যায়, যদিও এলাকাবাসী তাদের অপকর্ম সম্পর্কে অবগত থাকে। ১১০ ধারার প্রয়োগের মাধ্যমে এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা অভ্যাসগত অপরাধীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এটি প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধমূলক নীতিতে কাজ করবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১১০ ধারা একটি নিবর্তনমূলক বা প্রতিরোধমূলক আইন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—অভ্যাসগত অপরাধীদের কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য শাস্তি না দিয়ে ভবিষ্যতে যেন তারা অপরাধ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে ভালো আচরণের মুচলেকা নেওয়া। এই ধারার আওতায় অভ্যাসগত চোর, ডাকাত, দস্যু, অপহরণকারী, চাঁদাবাজ ও সমাজে ত্রাস সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য শান্তিরক্ষার মুচলেকা দিতে আদেশ দিতে পারেন।
