হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈকত তিন দিনের রিমান্ডে

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালত এই আদেশ দেন।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাসুম সরদার দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন শুনানিতে জানান, আসামি ঘটনার সাথে জড়িত। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। মামলার তদন্ত স্বার্থে আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামির আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন।
তিনি আদালতে বলেন, 'আসামি একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাকে ৩৫ দিনের অধিক রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এমন কোনো থানা নেই যে তার বিরুদ্ধে মামলা নেই। আসামির যদি অপরাধ প্রমাণিত হতো তাহলে তার ছাত্রত্ব বাতিল হতো। এখন পর্যন্ত অনেকের ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে জেলহাজতে আটক রয়েছেন তিনি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিনের প্রার্থনা করছি।'
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তানভীর হাসান সৈকতের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী আবু সায়াদ বিন মাহিন সরকার শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৯১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট রাতে রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকা থেকে তানভীর হাসান সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।