ছবিতে পাহাড়ে জুমচাষ
পাহাড়ি জমিতে জঙ্গল কেটে আগুনে পোড়ানোর পর গর্ত করে বীজ ধান রোপণ করাকে জুমচাষ বলা হয়। এক জায়গায় একবার জুমচাষ করার পর অন্তত পাঁচ বছর বিরতি দিতে হয়। এরপর আবার সেখানে জুমচাষ করা যায়।
বিরতির দেওয়ার কারণ, মাঝখানের সময়টাতে মাটির উর্বরতা যাতে বৃদ্ধি পায়। এ কারণে জুমচাষকে স্থানান্তর চাষাবাদ পদ্ধতিও বলা হয়।
জুমখেতে একসাথে বিভিন্ন ফসল চাষ করা যায়। যেমন ধান, মারফা, আদা, হলুদ, মরিচ, ভুট্টা, তির, মিষ্টি কুমড়া, ঢ্যাঁড়শ, শিম, তুলা ইত্যাদি। এজন্য জুমচাষ মিশ্র ফসলের চাষ হিসেবেও পরিচিত।
আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বছর খোরাকি জুমধান পাওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে জুমচাষ আগের মতো হয় না। দিন দিন কমে যাচ্ছে।
কোথাও কোথাও জুমচাষের জায়গায় চাষ করা হচ্ছে লাভজনক বিভিন্ন বাণিজিক্য ফলদ বাগান। কিন্তু পাহাড়ে দুর্গম এলাকায় চাষযোগ্য সমতল জমি না থাকার পাশাপাশি শাকসবজি ও বাণিজ্যিক ফলমূল পরিবহনে অসুবিধার কারণে জুমচাষই এখনও প্রধান ভরসা।
সে কারণে দুর্গম এলাকায় গেলে এখনও বিশাল এলাকাজুড়ে জুমখেত চোখে পড়ে। গহীন পাহাড়ে অধিকাংশ বাসিন্দারা আজও জুমচাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
জুমচাষিরা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় জুমখেতগুলো ভাল হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পর ধানের চারা থেকে শিষ বের হতে শুরু করবে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পেকে উঠবে এই ধান। তখন নবান্ন উৎসবের মাধ্যমে খাওয়া হবে জুমের এই নতুন ধান।