লিফটকে ফের ‘মূলধনি যন্ত্রপাতি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ও শুল্ক-কর প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে লিফটকে 'বাণিজ্যিক পণ্য' থেকে পুনরায় 'মূলধনি যন্ত্রপাতি' হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এসকেলেটর অ্যান্ড লিফট ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান বেলিয়ার নেতারা। একইসঙ্গে, আগামী অর্থবছরে পণ্যটির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক-কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তারা।
বেলিয়ার সভাপতি এমদাদ উর রহমান বলেন, 'নতুন ধার্যকৃত বাড়তি হারে, অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ হারে শুল্ক-কর প্রদান করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পূর্ববর্তী বাজেট অনুযায়ী শুল্ক-কর ধার্যের জন্য আমরা জোর দাবি জানাই।'
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, 'দেশের আবাসন খাতের উন্নয়নে লিফট একটি অন্যতম প্রধান উপকরণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত শুল্ক ও কর আরোপের ফলে পণ্যটির দাম অনেক বেড়ে যাবে এবং ভোক্তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন।'
তিনি আরও বলেন, 'এতে সার্বিকভাবে আবাসন খাতের উন্নয়ন ঝিমিয়ে পড়বে। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খাতটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী এবং হাজার হাজার কর্মী। তাই প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের আগেই লিফটের ওপর বাড়তি এই শুল্ক ও কর প্রত্যাহার এবং একে আগের মতো মূলধনি যন্ত্রপাতি হিসেবে গণ্য করার দাবি জানাই।'
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত লিফটকে 'মূলধনি যন্ত্রপাতি' হিসেবে বিবেচনা করে কম হারে শুল্ক ও কর আরোপ করা হতো। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে হঠাৎ করেই লিফটকে 'বাণিজ্যিক পণ্য' শ্রেণিতে স্থানান্তর করে আগের তুলনায় অধিক হারে শুল্ক ও কর ধার্য করা হয়। সে সময় এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিল বেলিয়া, তবে সরকার তা আমলে নেয়নি।
প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটেও লিফটকে 'বাণিজ্যিক পণ্য' হিসেবেই রাখা হয়েছে এবং শুল্ক-কর আরও বাড়ানো হয়েছে।
বেলিয়ার নেতারা বলেন, বর্তমানে লিফট খাতে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং নতুনভাবে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন করসহ মোট শুল্ক-কর দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশ—যেখানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই হার ছিল ২৫.৭৫ শতাংশ।
