পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় গ্রিন রিকভারি প্ল্যানসহ ৫ দফা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি বিএনপির

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৫ উপলক্ষে একটি জাতীয় সবুজ পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাসহ পাঁচ দফা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে তারা।
দিবসটি উপলক্ষে আজ বুধবার (৪ জুন) তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, "আমি আনন্দিত যে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস অর্থবহ কর্মসূচি ও উদ্যোগের মাধ্যমে পালন করছে। বিশ্বব্যাপী বেপরোয়া শিল্পায়ন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম যখন পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানকে হুমকির মুখে ফেলছে, তখন এই দিবসটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই জীবনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ।"
বর্তমান জলবায়ু সংকট এবং ক্রমবর্ধমান শিল্প দূষণের প্রেক্ষাপটে একটি বাস্তবভিত্তিক ও দূরদর্শী জাতীয় কৌশল গ্রহণ এখন সময়ের দাবি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে—দেশের পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। এগুলো হলো—
১. জাতীয় গ্রিন রিকভারি প্ল্যান প্রণয়ন — যার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ থেকে ৩০ কোটি গাছ লাগানো, নবায়নযোগ্য সবুজ জ্বালানি ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হবে।
২. ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও বিষাক্ত রাসায়নিক নিষিদ্ধকরণ — পাশাপাশি শিল্প ও গৃহস্থালি পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল বিকল্প ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হবে।
৩. নদী ও খাল খনন ও পুনরুদ্ধার কর্মসূচি গ্রহণ — জলাবদ্ধতা নিরসন ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সার্বিক ড্রেজিং ও সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
৪. দক্ষিণাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন — জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হবে।
৫. স্কুল পাঠ্যক্রমে পরিবেশ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত — পরিবেশ সচেতন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবেশবিষয়ক পাঠ যুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান তাঁর পোস্টে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত বৈচিত্র্যে অনন্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সমৃদ্ধ অনন্য পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিএনপি পরিবেশ সচেতন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, "দলীয়ভাবে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প এবং ক্ষতিকর প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছি।"
পরিবেশ সুরক্ষায় তাঁর বাবার অবদান স্মরণ করে তিনি লেখেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প চালু করেন, যা পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরে রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করেন এবং দেশের প্রথম পরিবেশ আদালত প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় আইনি কাঠামোর পথপ্রদর্শক। আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।