ট্রাম্পের শুল্ক বিষয়ে বৈঠক: যুক্তরাষ্ট্র ভালো বন্ধু, পণ্য রপ্তানি অব্যাহত থাকবে- প্রেস সচিব

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য জরুরি বৈঠক করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠক শুরুর পর যমুনার গেটে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কারোপের পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক হচ্ছে। আমরা কীভাবে কি লিখব, মার্কিন প্রশাসনকে কি জানাবো, তা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
তিনি বলেন, এই সরকার খুবই ব্যবসাবান্ধব। আমরা এমন কিছু করব, যার ফলে বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রে যে রপ্তানি আছে, তার চেয়ে আরও বাড়বে। সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ভালো বন্ধু। তারা যেসব ইস্যু তুলেছে তার সবগুলো নিয়ে আজ আলাপ হবে। তরপরে নিশ্চিত থাকতে পারেন বাংলাদেশের রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশে আরও বাড়বে, কমবে না।
প্রেস সচিব বলেন, ব্যবসায়ীদের মতামতকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তারাই রপ্তানি করে, সরকার করে না। তাদের প্রস্তাবের বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যেটা খুবই ব্যবসাবান্ধব হবে।
বৈঠকে যোগ দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান প্রমুখ।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন 'রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ' নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণার সময় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছিলেন।
গতকাল দেশে ফিরে আজ তিনি এ বিষয়ে জরুরি বৈঠকের ডাক দিলেন।ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করব এবং আমি নিশ্চিত যে আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারব।'
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম অধ্যাপক ইউনূসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা বাসসকে এ কথা বলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক রিভিউ করছে।
গত ৩ এপ্রিল সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এক প্রেস বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, 'জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দ্রুত শুল্কহার যুক্তিসংগত করার বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখছে, যা বিষয়টি সমাধানের জন্য জরুরি।'
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, 'ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। মার্কিন সরকারের সঙ্গে আমাদের চলমান কাজ এই শুল্ক ইস্যু মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করছি।'
প্রধান উপদেষ্টা থাইল্যান্ড সফরে বিমসটেক সম্মেলনে যোগদান ছাড়াও সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
গত ২ থেকে ৪ এপ্রিল তিন দিনের বিমসটেক সম্মেলন ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়।