যেসব নামের সঙ্গে পাবলিক আছে, সেগুলো সব বিপর্যস্ত: আনু মুহাম্মদ

দেশের যে সব প্রতিষ্ঠান এবং জায়গার নামের আগে পাবলিক রয়েছে সেগুলো বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, 'যে সব নামের সঙ্গে পাবলিক আছে, সেগুলো বিপর্যস্ত। যেমন: পাবলিক এডুকেশন, পাবলিক হেলথ কেয়ার, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এগুলো সব বিপর্যস্ত। একইসঙ্গে পাবলিক স্পেস নাই, সবকিছুই বিপর্যস্ত। পাবলিক যেসব নামের সঙ্গে আছে সেগুলোর ভয়াবহ অবস্থা। কিন্তু এর বিপরীতে দেখেন প্রাইভেট জায়গাগুলো কিন্তু বিপর্যস্ত না।'
রোববার (২৩ মার্চ) পান্থকুঞ্জ পার্ক ও হাতিরঝিল জলাধার ধ্বংস করে এফডিসি থেকে পলাশী পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্পের ফ্লাইওভার বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচির ১০০তম দিনের বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স এর কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন।
এসময় আনু মুহাম্মদ বলেন, '২% মানুষ পরিবেশ ধ্বংস করে তৈরি করা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলে যাবে, আর বাকি ৯৮% মানুষ বর্জ্য, ধূলা, যানজটের অসহনীয়তা ভোগ করবে। দেশে যে বৈষম্য এই কাজে তার একটি চিত্র রয়েছে। উন্নয়ন যে কতোটা বৈষম্য করে, সেটার একটি চিত্র আছে এখানে।'
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, 'স্বৈরশাসক কেউ শখে হয় না; রূপপুর, রামপাল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো এমন প্রকল্পের মাধ্যমে স্বৈরশাসক হয়। দখল লুন্ঠন যেখানে, সন্ত্রাস সেখানে। গত ৮ মাসে স্বৈরশসকের আমলে হওয়া মেগা প্রকল্পের পর্যালোচনা হয়নি। উন্নয়ন যে কতোটা বৈষম্যবাদী তার বাস্তব প্রমাণ এই প্রকল্প।'
তিনি বলেন, 'আমরা দেখলাম যুক্তরাষ্ট্র থেকে একজন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ আনা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে। তিনি কি সমাধান করবে ঢাকার? দেশের স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বসেই সমাধানে আসতে হবে।'
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নিয়ে তিনি বলেন, 'সরকারের সামনে পরীক্ষা হচ্ছে, জনগণের সঙ্গে থাকবে নাকি, চাইনিজ কোম্পানির সঙ্গে থাকবে। উপদেষ্টারা যেন আগামী ২/১ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেন কখন এই প্রকল্প বন্ধ করা হবে এবং হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ রক্ষা করবেন।'
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) -এর সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, 'চোর ডাকাতের লজ্জা থাকে না। অন্তবর্তী সরকারেরও যদি লজ্জা না থাকে তাহলে কেমন হবে? এলিভেটেড এক্সপ্রেওয়ের ডিজাইন পরিবর্তন করে পরিবেশ ধ্বংস করা প্রকল্পের অংশ তো এই সরকারের শুরুতেই বাতিল করা প্রয়োজন ছিল। অন্যায্য প্রকল্পগুলো মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়ে জনগণের ওপরে চাপ দেবেন না।'
চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান বলেন, 'আমাদের নগর পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেটা অবশ্যই নগর পরিকল্পনা করার সময় ভাবতে হবে। ফ্যাসিবাদের পরিকল্পনাতেই যদি এখনও উন্নয়ন চলে, তাহলে সেখানে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।'
বাংলাদেশ গাছ রক্ষা আন্দোলন- এর সমন্বয়ক আমিরুল রাজিব বলেন, 'আমরা বিগত সময়ে যাদের নিয়ে পরিবেশ রক্ষায় আন্দোলন করেছি, তারাই এখন সরকারে আছে। কিন্তু ১০০ দিন পার হয়ে গেলেও হাতিরঝিল ও পান্থকুঞ্জ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত তারা দিতে পারেনি। বরং অনেকে আমাদের মধ্যের আন্দোলনকারীদের ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছে। আমাদের ওইসব ফোন রেকর্ড পাবলিক করতে বাধ্য করবেন না।'
তারা বিদ্যমান পরিপ্রেক্ষিতে ৯ দাবি পেশ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-
হাতিরঝিল ভরাট বন্ধ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা; পান্থকুঞ্জ পার্ক থেকে সব নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া; এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনা; মাঠ পার্ক জলাধার রক্ষার নীতিমালা করা ইত্যাদি।