দেশীয় ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের সুরক্ষায় শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে লাইসেন্স না দেওয়ার দাবি বাফা’র
দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফা)। সংগঠনটি শতভাগ কোনো বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিকে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং লাইসেন্স না দেওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে জোর আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং লাইসেন্সিং বিধিমালাসংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরের সাথে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের আগে খাতের সার্বিক সুরক্ষায় এনবিআরের কাছে ৫টি নীতি প্রস্তাব পেশ করে বাফা।
বৈঠক প্রসঙ্গে বাফার সাবেক সভাপতি কবির আহমেদ খান জানান, মূলধন, নতুন প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জ্ঞান স্থানান্তরের লক্ষ্যে তারা বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানান। তবে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং খাতের মতো স্পর্শকাতর সেবায় শতভাগ বিদেশি মালিকানা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানান তিনি।
বাফা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, আমরা বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধের পক্ষে নই। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং মূলত একটি সেবা খাত, যা বিশাল মূলধনের চেয়ে পেশাগত দক্ষতা, দক্ষ জনশক্তি এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভর করে। গত কয়েক দশকে দেশীয় উদ্যোক্তারা এই খাতে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলেছেন।
এই খাতে নীতিগত কোনো বড় পরিবর্তন আনার আগে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো, নতুন কর্মসংস্থান, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং দেশীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়িত্বের মতো দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রভাব মূল্যায়নের দাবি জানায় বাফা।
এছাড়াও বাফার পেশ করা অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—গ্রস বিলিংয়ের ওপর আরোপিত ১% উৎসে কর (টিডিএস) বিলোপ করা, অভ্যন্তরীণ আকাশপথে পণ্য পরিবহনের (এয়ার ফ্রেইট) ভাড়া মার্কিন ডলারের পরিবর্তে টাকায় ধার্য করা এবং বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা সেবামূল্যের ওপর ৫% হারে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া।
অবশ্য শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের কোম্পানি বিষয়ে বাফা'র বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি (সাবেক বিডা) কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, 'শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলে এ খাতে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরির পথ খুলবে।'
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিংসহ যত ধরণের এজেন্ট ব্যবসা রয়েছে, তা এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই চলছে, যা পৃথিবীর খুব কম দেশেই আছে।'
বিদেশিদের এ ব্যবসায় আসার সুযোগ করে দিলে তা বাংলাদেশের এজেন্ট ব্যবসায়ের অগ্রগতিতে মাইলফলক হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের যারা এর বিরোধিতা করছেন, তারা নিজেরা দক্ষ ও স্বচ্ছ হবেন না। আবার কাউকে হতেও দিতে চান না।'
