১০–৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ডেড সুবিধা বাতিল: এনবিআরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল বিটিএমএ
১০ থেকে ৩০ কাউন্টের তুলা থেকে তৈরি সুতার (কটন ইয়ার্ন) বন্ডেড শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দেশীয় সংকটাপন্ন স্পিনিং ও টেক্সটাইল খাতের জন্য এই পদক্ষেপকে একটি 'সম্ভাবনাময় মোড় পরিবর্তন' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এনবিআর এই সংক্রান্ত একটি আদেশ (আদেশ নং ৫১/২০২৬/কাস্টমস/৫১৯) জারি করে। এর মাধ্যমে কাস্টমস এইচএস হেডিং ৫২০৫, ৫২০৬ এবং ৫২০৭-এর অধীনে থাকা বন্ডেড শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। তবে প্রকৃত রপ্তানিকারকেরা ১০০ শতাংশ ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান সাপেক্ষে এসব কাউন্টের সুতা আমদানির সুবিধা পাবেন।
বিটিএমএ জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার আওতায় সহজে সুতা আমদানির সুযোগ থাকায় বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার চাহিদা চরমভাবে মার খাচ্ছিল। ফলে বহু দেশীয় স্পিনিং মিল তাদের উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম সক্ষমতায় চলছিল, আবার অনেক মিল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে যে, এনবিআরের এই নতুন আদেশের ফলে চাহিদা এখন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার দিকে ধাবিত হবে। এতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ও আংশিক চালু থাকা মিলগুলো পূর্ণ শক্তিতে উৎপাদনে ফিরতে পারবে। পাশাপাশি এ পদক্ষেপ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, ব্যাংকগুলোর আটকে থাকা ঋণ পুনরুদ্ধারে সাহায্য করবে এবং ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের (এনপিএল) পরিমাণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আউটপেস স্পিনিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিটিএমএর সাবেক পরিচালক রাজীব হায়দার বলেন, "এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, যা স্থানীয় শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।" তিনি আরও বলেন, এই সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে দেশীয় সুতার চাহিদা বাড়বে, যা পুরো টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকের সরবরাহ শৃঙ্খলে অভ্যন্তরীণ মূল্য সংযোজন (ভ্যালু এডিশন) বৃদ্ধি করবে।
টিবিএসকে তিনি বলেন, "এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণের জন্য প্রস্তুত হতেও সাহায্য করবে, যেখানে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মূল্য সংযোজন এবং দুটি ধাপে রূপান্তরের (টু-স্টেজ ট্রান্সফরমেশন) বাধ্যবাধকতা রয়েছে।"
বিটিএমএ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী বন্ডেড আমদানির বিপরীতে দেওয়া ব্যাংক গ্যারান্টি কেবল তখনই ছাড় করা হবে, যখন উৎপাদিত পণ্য সম্পূর্ণভাবে রপ্তানি করা হবে এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আসবে। পুরো বিষয়টি অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে।
সংগঠনটির মতে, এই শর্ত আটকে থাকা প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের অনাহরিত রপ্তানি আয়ের সমস্যা সমাধানেও বড় ভূমিকা রাখবে। ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড় করার বিষয়টি রপ্তানির অর্থ সময়মতো দেশে আনার শর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকায়, তা রপ্তানিকারকদের সময়মতো আয় নিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। ফলে রাজস্ব ফাঁকি রোধ হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত থাকবে।
বিটিএমএ আরও উল্লেখ করেছে যে, নন-বন্ডেড রপ্তানিকারকদের জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক আমদানি ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ফলে এনবিআরের এই নতুন পদক্ষেপে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে না।
