শিল্প কারখানায় ১% শুল্কে সৌর সরঞ্জাম আমদানির সুবিধা বহাল রয়েছে, ব্যাখ্যা দিল এনবিআর
শিল্পখাতের আমদানিকারকরা আগের মতোই ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনি যন্ত্রপাতি) ফ্যাসিলিটির আওতায় মাত্র ১ শতাংশ শুল্কে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানি করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) এক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কাস্টমস স্টেশনগুলোতে এনবিআরের এক সংবিধিবদ্ধ আদেশের (এসআরও) 'ভুল ব্যাখ্যা'র কারণে ১ শতাংশের জায়গায় ১৭ শতাংশ শুল্ক আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে আমদানিকারকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে সংস্থাটি থেকে এই স্পষ্টীকরণ আদেশ জারি করা হয়েছে।
এনবিআরের জারি করা স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, শিল্প পর্যায়ের ব্যবহারকারীরা ১ শতাংশ শুল্কে সৌর সরঞ্জাম আমদানির সুবিধা অব্যাহতভাবে পাবেন; কারণ নতুন এসআরও'তে এই সুবিধা রহিত করা হয়নি। তবে বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীসহ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্ধারিত উচ্চ হারে শুল্ক দিতে হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "গত বাজেটে সরকার সোলার ইক্যুইপমেন্ট আমদানিতে অতিরিক্ত কিছু সুবিধা প্রদান করেছিল, তবে বিদ্যমান সুবিধার কোনটিই প্রত্যাহার করেনি। কিন্তু কাস্টমস ভ্যালুয়েশন কর্মকর্তাসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আদেশটি ভুল ব্যাখ্যা করেন এবং ১ শতাংশের পরিবর্তে ১৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।"
তিনি আরও জানান, "এনবিআরের এই ব্যাখ্যার পর উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।"
ব্যবসায়ী সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাস্টমসে অন্যায্যভাবে বেশি কর আরোপ করায় অধিকাংশ আমদানিকারক বন্দর বা কাস্টমস স্টেশন থেকে তাদের চালানের খালাস বন্ধ রেখেছিলেন, যার ফলে ব্যবসায়ীদের অনাবশ্যক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, এনবিআরের এই স্পষ্টীকরণ আরও আগেই প্রকাশ করা উচিত ছিল। এর পাশাপাশি কিছু সোলার পণ্যে এখনো শুল্ক না কমানোয় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কিছু পণ্যে চড়া শুল্ক বহাল থাকলে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনেউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ টিবিএসকে জানান, "এনবিআরের এই ব্যাখ্যার পর শিল্পখাতের ব্যবহারকারীদের জন্য আমদানি কর-সংক্রান্ত জটিলতার আপাতত নিরসন হয়েছে।"
"তবে সৌরবিদ্যুতের অতি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম যেমন—ইনভার্টারের ওপর শুল্ক এখনো সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ পর্যন্ত এবং ব্যাটারির ওপর ৫০ শতাংশের বেশি শুল্ক বহাল রয়েছে। এটি দেশে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার ও আওতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে," বলেন তিনি।
