গ্যাস সংকটের মধ্যেই আরএলএনজি সরবরাহ আরও ১০০ এমএমসিএফডি কমল
জাতীয় গ্রিডে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (আরএলএনজি) সরবরাহ দিনে আরও ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) হারে কমছে। এ পরিস্থিতি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের গ্যাস সংকটকে আরও গভীর করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিতাস গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ পিএলসি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি এখন প্রায় দিনে ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে।
তিতাস সতর্ক করে বলেছে, পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে এই বড় ধরনের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিএনজি ভর্তি কেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকবে।
পেট্রোবাংলার সূত্র জানিয়েছে, চলমান সরবরাহ বিঘ্নের মধ্যে নির্ধারিত সময়ের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী জাহাজ সময়মতো না পৌঁছানোয় মজুত সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সরবরাহ আরও কমে গেছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের দুই দিন পর, অর্থাৎ ২৩ জুলাই, জাতীয় গ্যাস গ্রিডে ৫৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল।
পরের দিন সরবরাহ কমে দিনে ৫৪৩ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। এরপর তা আরও কমে দিনে ৪৬৮ মিলিয়ন ঘনফুটে এসে দাঁড়ায়। অর্থাৎ কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় দিনে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ কমে যায়।
বাংলাদেশের দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসীকরণ ইউনিটের সম্মিলিত পুনরায় গ্যাসীকরণ সক্ষমতা দিনে ১,১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে শুধু এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালটির সক্ষমতাই দিনে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করার।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দেশ দুটি টার্মিনাল থেকে মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট পুনরায় গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পেয়ে থাকে।
২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় গ্যাস সরবরাহ এখন মূলত সামিট পরিচালিত ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনরায় গ্যাসীকরণ ইউনিটের ওপর নির্ভর করছে। তবে সেটি একাই পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না।
দীর্ঘস্থায়ী এই সরবরাহ বিঘ্নের ফলে শিল্প উৎপাদন ও পরিবহন সেবা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সিএনজি স্টেশনগুলোতে এখনো দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ খাতও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। গ্যাসের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে মাঝারি পর্যায়ে থাকলেও দিনের অধিকাংশ সময় দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
