নতুন শুল্কারোপের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির লাভ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি 'ইউএস এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড'-এর আওতায়, ৩৭০ কোটি ডলারের বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি সই এবং চড়া দামে মার্কিন গম কেনার প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ নতুন করে ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক শুল্কারোপ ছাড়া বলতে গেলে কিছুই পায়নি। ফলে এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েই এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তথাকথিত 'জোরপূর্বক শ্রম' ব্যবহারের অভিযোগে গত ২৪ জুলাই থেকে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন বিষয়ে আরেকটি তদন্ত করছে দেশটি। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও শুল্কের মুখে পড়তে পারে।
এই বাণিজ্য চুক্তির অধীনে অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল– মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাক দেশটির বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার। তবে সেই সুবিধাও এখনও অধরা রয়ে গেছে, যা থেকে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের আদৌ কোনো লাভ হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
'একপক্ষ সুবিধা দিল সব, অপরপক্ষ দিল কেবল শুল্কের বোঝা'—ওয়াশিংটন বাংলাদেশের ওপর নতুন করে শুল্ক চাপানোর পর বাণিজ্য চুক্তিকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা বলছেন, বৈশ্বিক পাওয়ার প্র্যাকটিসের শিকার হয়ে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি মেনে নেওয়ার চেয়ে—চুক্তিটি সংশোধন বা এমনকি বাতিলের বিষয়ে ওয়াশিংটনের সাথে এখনই দরকষাকষি শুরু করা উচিত।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান টিবিএসকে বলেন, ''যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি পুরোপুরি অন্যায্য ও অযৌক্তিক। এখন বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর প্রায় একই হারে শুল্কারোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বাণিজ্য চুক্তি থেকে বাংলাদেশ কোন সুবিধা তো পেলোই না, উল্টো বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে।''
রিসার্চ এন্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ রাজ্জাক বলেন, ''যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য 'এক্সট্রিমলি আনফেয়ার, টোটালি আন-ইক্যুয়াল'। এটাকে কোনো বাণিজ্য চুক্তি বলা যায় না। চুক্তিতে এক দেশ আরেক দেশকে ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু এখানে একতরফাভাবে বাংলাদেশ সব সুবিধা দিয়েও কিছু পায়নি।''
মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে কি মিলবে শুল্কমুক্ত সুবিধা?
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বাংলাদেশকে জানিয়েছে, মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা আগামী সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। তবে মাত্র তিন বছরের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে। শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধার অন্যান্য শর্ত ও রপ্তানির সর্বোচ্চ পরিমাণও ঠিক করবে যুক্তরাষ্ট্র।
বাংলাদেশের সঙ্গে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াকেও একই সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের পারস্পরিক শুল্ক ব্যবস্থা বা 'রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ রেজিম' বাতিল করার পর—গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিটি বাতিল করে মালয়েশিয়া।
বাংলাদেশও এই সুবিধা থেকে কতোটা লাভবান হতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন সব কঠোর শর্ত আরোপ করতে পারে, যা পূরণ করে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশী রপ্তানিকারকদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষর করার পর সরকারের নীতি-নির্ধারকরা এটিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে প্রচার করেছিলেন।
বাংলাদেশ বিশ্বে মার্কিন তুলার বৃহত্তম আমদানিকারক, বছরে যার পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৭.৩৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বাতিল করার পর অন্য এক আইনের আওতায়, ছয় মাসের জন্য ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। গত শুক্রবার এই শুল্কের মেয়াদ শেষ হলে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।
৬০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়াসহ ১৭টি দেশের ওপর ১০ শতাংশ; চীন, ভিয়েতনামসহ ৩৮টি দেশের ওপর ১২.৫ শতাংশ ও অন্য দেশগুলোর ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করা হয়েছে। অবশ্য চীনসহ অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ওপর আরোপিত ট্যারিফ রেট (শুল্কের হার) সামান্য কম হওয়াকে দেশের জন্য ইতিবাচক বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
'চুক্তি সংশোধন বা বাতিল করা উচিত'
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব পণ্য আমদানির অঙ্গীকার করেছে ঢাকা, সেগুলো আমদানি করতে হবে। এতে দেশের আর্থিক ক্ষতি হলেও তা মেনে নিতে হবে। এই ক্ষতি মেনে না নিয়ে চুক্তিটি সংশোধন বা বাতিল করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে– বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ শুল্কের বোঝা বইতে হতে পারে। সব দেশের ওপর ১০-১২ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের উপর ১৯ শতাংশ শুল্কারোপ হলে প্রতিযোগী সক্ষমতা বলে কিছু থাকবে না। তাই সরকারের উচিত, এই চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা।"
তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের বছরে ১০০ বিলিয়ন বাড়তি ব্যয় করতে হবে, যা তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশসহ সব দেশের রপ্তানি কমার আশঙ্কা রয়েছে।
র্যাপিড-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ রাজ্জাক বলেন, চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য একটাই ইতিবাচক দিক ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে, কিন্তু সেটিও অস্পষ্ট বিষয়। "কারণ, চুক্তিতে বলা আছে, কিভাবে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তার ম্যাকানিজম যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে। এতে বাংলাদেশ এ সুবিধা ভোগ করতে পারবে বলে মনে করি না।"
''কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনো বাণিজ্য চুক্তি মানে না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কোনো নিয়ম মানে না। তারা অর্থনৈতিক শক্তির জোরে অন্য দেশের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। তাই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোন ছাড় না পেলেও—বাংলাদেশকে পারচেজ কমিটমেন্টগুলো মেনে চলতে হবে। এতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে জেনেও—তা মেনে নিয়েই করতে হবে''- যোগ করেন এমএ রাজ্জাক।
ব্যয়বহুল প্রতিশ্রুতি
বাংলাদেশ এখনও চুক্তিটি অনুমোদন (র্যাটিফাই) না করলেও, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো থেকে বিভিন্ন ধরণের জ্বালানি, ভোগ্যপণ্যসহ নানান পণ্য বেশি দামে আমদানিসহ প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে।
গত ১ জুলাই সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জি-টু-জি ব্যবস্থায় ২.২০ লাখ টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২২ ডলার। একই দিনে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এতে প্রতি টনের দাম পড়বে ২৯৭.৯২ ডলার। অর্থাৎ, প্রতিটন ২৪ ডলার বেশি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করছে সরকার।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর ৪৫,০০০ কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, চিনি, সয়াবিন, তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় বাড়িয়েছে সরকার ও বেসরকারিখাত।
মার্কিন কোম্পানিগুলোর সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণ সহজ করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালাও সংশোধন করেছে।
নতুন শুল্কের আশঙ্কা
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্ত শুরু করে। বাংলাদেশসহ দেশগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তে কোন ধরণের প্রমাণ পেয়েছে, তা প্রকাশ করেনি ইউএসটিআর। অর্থাৎ, একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই শুল্ক আরোপ করেছে।
তারা আশঙ্কা করছেন, বাংলাদেশের 'অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা' নিয়ে ইউএসটিআরের চলমান তদন্তটিও একই ধারায় পরিচালিত হতে পারে এবং এর ফলে আরও নতুন শুল্ক আরোপিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে ৬০টি দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন, তদন্তের পর সবগুলো দেশের ওপর শুল্কারোপ করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট যে, ৩০১ সেকশনের আওতায় দেশগুলোর ওপর এই শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার অভিযোগ তুলে যে তদন্ত করছে ইউএসটিআর, তা নাকচ করে দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান টিবিএসকে বলেন, ''তৈরি পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, অথচ এর প্রায় সব কাঁচামাল আমদানি করা হয়। তাই পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের অতিরিক্ত সক্ষমতার প্রশ্নই আসে না। বাংলাদেশের একমাত্র শক্তি সস্তা শ্রম। গার্মেন্টস সেক্টরে কম মজুরিতে বিপুল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাক উৎপাদন করছে। বিপুল জনশক্তিকে কম মজুরিতে একটা খাতে ব্যবহার করাটা বাড়তি সক্ষমতা নয়, বরং এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতাকে তুলে ধরে।''
তিনি বলেন, ভারত, চীন বা মিয়ানমার যে পণ্য উৎপাদন করতে পারে না, বাংলাদেশ যদি তা ব্যাপকভাবে উৎপাদনে সক্ষম হতো, তাহলে বাংলাদেশের অধিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করতে পারতো।
অনিশ্চয়তায় রপ্তানিকারকেরা
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান টিবিএসকে বলেন, চুক্তিতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশী রপ্তানিকারকেরা মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে এখনও শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
''ইউএসটিআর আমাদের জানিয়েছে যে, আগামী সেপ্টেম্বরে এই সুবিধা কার্যকর করা হবে। শুল্কমুকক্ত রপ্তানি সুবিধার অন্যান্য শর্ত ও ভলিউমও ঠিক করে দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তিন বছরের জন্য এই সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছে''- জানান তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থপূর্ণ কোনো সুবিধা পাওয়ার লক্ষণ দেখছি না। তাছাড়া, ইউনূস সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিতে এই সুবিধার বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।
''একটি পোশাক তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা কত শতাংশ ব্যবহার করলে— কত শতাংশ শুল্কছাড় পাওয়া যাবে, তাও উল্লেখ নেই। ফলে পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা কেমন হবে, তাও শেষপর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে''- যোগ করেন তিনি।
