অর্থনৈতিক অঞ্চলের ডিপিএ প্রতিষ্ঠানের বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর নিয়ম শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক
অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইজেড) ডমেস্টিক প্রসেসিং এরিয়াজ (ডিপিএ) বা অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় কার্যরত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা নীতি শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এখন থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ (কারিগরি জ্ঞান) এবং টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (কারিগরি সহায়তা) ফির জন্য নির্ধারিত বিদ্যমান সীমার অতিরিক্ত অর্থও— বহির্মুখী রেমিট্যান্স হিসেবে বিদেশে পাঠাতে পারবে।
আজ সোমবার (১৩ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সার্কুলার জারির মাধ্যমে নীতিগত এই পরিবর্তন এনেছে, যা ডিপিএ-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা রেমিট্যান্স সংক্রান্ত বিদ্যমান কাঠামোকে সংশোধন করেছে।
আগের নীতি অনুযায়ী, এডি ব্যাংকগুলো রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ এবং টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফির জন্য টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে শুধুমাত্র নির্ধারিত সীমার মধ্যেই বহির্মুখী রেমিট্যান্সের সুবিধা দিতে পারত। নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ আমদানিকৃত যন্ত্রপাতির খরচের ৬ শতাংশের বেশি হতে পারত না। অন্যদিকে, চলমান বা বিদ্যমান প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই সীমা ছিল আয়কর রিটার্নে ঘোষিত পূর্ববর্তী বছরের বিক্রয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।
নতুন সার্কুলারের ফলে এখন থেকে এই নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করা যাবে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই বেজা-এর কাছ থেকে পূর্বানুমোদন নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও শর্ত দিয়েছে যে, অর্থের পরিমাণ যাই হোক না কেন, অন্য যেকোনো অনুরূপ বৈধ খরচের জন্য বহির্মুখী রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রেও একইভাবে কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন প্রয়োজন হবে।
ব্যবসায়িক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, এই সংশোধিত নীতি ডিপিএ প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তঃসীমান্ত লেনদেন বা ক্রস-বর্ডার ট্রানজেকশন আরও সহজতর করবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি-সংক্রান্ত অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে দেশে আরও বেশি বৈশ্বিক বা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এটি বড় ভূমিকা রাখবে।
