ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা, পরিচালনায় বিআইএন বাধ্যতামূলক করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে এনবিআরের চিঠি
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চলতি (কারেন্ট) হিসাব ও স্বল্পমেয়াদি আমানত (এসটিডি) হিসাব খোলা এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বা ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন হিসাব খোলার পাশাপাশি বর্তমানে পরিচালিত সব ব্যবসায়িক হিসাবেও বিআইএন সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের সেকেন্ড সেক্রেটারি শেখ মো. মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের (বিআরপিডি) নির্বাহী পরিচালকের কাছে এ অনুরোধ জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) চলতি বা এসটিডি হিসাব খুলতে কিংবা পরিচালনা করতে চাইলে বিআইএন থাকতে হবে।
এ ছাড়া ব্যাংক বা এনবিএফআই থেকে ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, প্রতিষ্ঠানের নামে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া এবং বিআরটিএ থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও বিআইএন বাধ্যতামূলক করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এনবিআর চিঠিতে বিষয়টি কার্যকর করতে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৯২ লাখ চলতি হিসাব রয়েছে। তবে একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক হিসাব এবং ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের হিসাবও এ সংখ্যার মধ্যে রয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কতটি সক্রিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলতি হিসাব পরিচালনা করছে, সে তথ্য নির্দিষ্টভাবে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, চলতি হিসাবধারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে আগামী এক বছরে প্রায় ২০ লাখ নতুন ভ্যাট নিবন্ধন পাওয়া যেতে পারে।
এর অর্থ, প্রায় ২০ লাখ নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
তবে এ পদক্ষেপের ফলে ব্যবসায়ীরা বিআইএন এড়াতে অন্য ধরনের হিসাব ব্যবহার করতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নও উঠেছে। সে ক্ষেত্রে সরকারের ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, "ভবিষ্যতে সব ধরনের ব্যাংক হিসাবই আমাদের নজরদারির আওতায় আসবে। ফলে কোনো হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন হলে তার কারণ উদ্ঘাটন করা কঠিন হবে না।"
