অর্থনৈতিক সংকট আছে, তবে এবারের বাজেট মানুষকে আশার আলো দেখাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, দেশে অর্থনৈতিক সংকট আছে, তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে জনগণের সামনে আশার আলো তুলে ধরা গেছে। তিনি বলেন, 'বাজেটের মাধ্যমে দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।'
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট, বাজেটের মঞ্জুরি দাবি ও দায়মুক্ত ব্যয় নির্দিষ্টকরণের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে 'জীবনবান্ধব' নামে অভিহিত করে তিনি বলেন, 'আজকে আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এই বাজেটকে আমি একটি নামকরণ করতে চাই—সেটি হচ্ছে জীবনবান্ধব বাজেট। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এ বাজেট থেকে।'
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে ত্রয়োদশ সংসদের বাজেট অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়।
দেশের সামনে থাকা আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশে সংকট রয়েছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। স্বৈরাচারের সময়ে দেশের অর্থনীতিকে কুচি-কুচি করে শেষ করা হয়েছে।
'তবে সংকটকে অজুহাত বানাতে রাজি নই আমরা। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে চাই।'
তারেক রহমান আরও বলেন, 'এই বাজেটে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের চাকা সচল ও বেগবান করা। অর্থনীতির চাকাকে বেগবান রাখতে বিনিয়োগ, বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ার কাজ, উদ্যোগ আমরা হাতে নিয়েছি।'
বাজেটের আকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাস্তব প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী বাজেট বড়ই দিতে হয়েছে। মানুষের স্বপ্ন বা অধিকারের পরিধি কিন্তু এই সংখ্যার চেয়ে অনেক অনেক বড়। পৃথিবীর সব দেশেই তা হয়ে থাকে। এই বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন ভিত্তির উপর আমরা দাঁড় করাতে চাই।'
তিনি আরও বলেন, 'অতীতে বেশ কিছু ভ্যানিটি প্রজেক্ট গ্রহণ করার মাধ্যমে অহেতুক দেশি-বিদেশি ঋণ গ্রহণ করা হয়েছিলো, যা এখন জাতির ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।'
অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এবারের বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগীদের কবল থেকে বের করে নিয়ে এসে সকল নাগরিকের জন্য অংশগ্রহণমূলক করা—এবং এর মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।'
তিনি বলেন, 'বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার জোর দিতে চাইছে। সেটি হলো: দরিদ্র, নিম্ন আয় এবং ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে জীবনযাত্রার বোঝা যতটুকু সম্ভব লাঘব করা।'
