বাজেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ, সংস্কারমুখী ও ব্যবসাবান্ধব, বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ: বিসিআই
জাতীয় সংসদে গত ১১ জুন উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ, সংস্কারমুখী ও ব্যবসাবান্ধব হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। এই বাজেটকে ইতিবাচক হিসেবে গণ্য করে অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
শুক্রবার (১২ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিআই সভাপতি বলেন, "বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের গৃহীত সংস্কারমুখী পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাত, কর ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের অঙ্গীকার দীর্ঘমেয়াদে শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"
বিসিআই সভাপতি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য হিসেবে ১০টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা এবং পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি ও ব্লু-ইকোনমিকে গুরুত্ব দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি মনে করেন, বন্ধ কলকারখানা চালুসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এবং করের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে বাজেট প্রস্তাবটি ইতিবাচক হিসেবে কাজ করবে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, "রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য প্রস্তাবিত খাতসমূহের সাথে হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকে যুক্ত করা আবশ্যক; কারণ বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে এবং বাংলাদেশের এ সুযোগ গ্রহণ করার সক্ষমতা রয়েছে।" বিসিআই সভাপতি আরও বলেন, 'ডিরেগুলেশন'-এর মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ প্রস্তাবনাসমূহ এ বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য ও সাহসী পদক্ষেপ। এ সকল প্রস্তাবনার সঠিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আবশ্যক।
বিসিআই সামগ্রিকভাবে মনে করে, একটি বিপুল জনসংখ্যার (১৯০ মিলিয়ন) দেশকে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং সকল সেক্টরের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য এ ধরনের বড় বাজেট আবশ্যক। তবে বাংলাদেশের পূর্বাপর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এর বাস্তবায়ন সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর জন্য বাস্তবায়নের প্রথম দিন থেকেই সুনির্দিষ্ট টাইমলাইন ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে এবং সকল ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত রাখতে হবে।
বিসিআই এ বছরের বাজেটে প্রস্তাবিত বিষয়সমূহের মধ্যে নিম্নোক্ত ৮টি বিষয়ের দিকে অধিকতর গুরুত্ব আরোপের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে:
১. বাজেটে প্রস্তাবিত জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ক সকল কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বিশেষ করে সকল শিল্পের জ্বালানি সরবরাহ সব সময়ের জন্য নিশ্চিত করা;
২. ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ;
৩. দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সকল বাধা দূর করে দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা;
৪. রপ্তানি বহুমুখীকরণের পদক্ষেপসমূহ অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে রপ্তানি বাস্কেট ও বাজার সম্প্রসারণ করা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণে প্রস্তাবিত খাতসমূহের সাথে হালাল পণ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা;
৫. বন্ধ কারখানা চালু এবং শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত পদক্ষেপসমূহ কার্যকর বাস্তবায়ন করা;
৬. অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সকল বাধা দূর করে এ খাতের জন্য প্রস্তাবিত সকল পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা এবং ফরমাল ইকোনমির আকার বৃদ্ধি করা;
৭. নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রস্তাবিত সকল পদক্ষেপ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা;
৮. ব্যবসা সহজীকরণে 'ডিরেগুলেশন' বিষয়ক সকল প্রস্তাবনা যথাযথ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা।
