১০% প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ নিয়োগ দিলে বড় করছাড় পাবে প্রতিষ্ঠান
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান উৎসাহিত করতে বড় ধরনের করছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কোনো করদাতা প্রতিষ্ঠান যদি তাদের মোট জনবলের অন্তত ১০ শতাংশ বা কমপক্ষে ২৫ জন প্রতিবন্ধী অথবা তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়, তবে ওই প্রতিষ্ঠান বিশেষ কর রেয়াত সুবিধা পাবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দেন।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, উল্লিখিত শর্ত পূরণকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ অথবা সংশ্লিষ্ট প্রতিবন্ধী বা তৃতীয় লিঙ্গের কর্মীদের পরিশোধিত মোট বেতনের ৭৫ শতাংশের মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ কর রেয়াত হিসেবে দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী সন্তানদের অভিভাবকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাব করে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির করদাতা পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবকের করমুক্ত আয়সীমা প্রচলিত সীমার চেয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা বেশি হবে। বর্তমানে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের অভিভাবকদের ক্ষেত্রে এই সীমা হবে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতিটি প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য এই অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকার সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, আগামী অর্থবছরে প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র আয়কর দাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সাধারণ সীমা ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে সরকার।
'গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
বাজেটের এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট পেশ করা হয়। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট উপস্থাপন। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে দুপুরে মন্ত্রিসভায় বাজেটটি অনুমোদিত হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি এতে সম্মতি জানান। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই বাজেট কার্যকর হবে।
