Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Thursday
April 23, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
THURSDAY, APRIL 23, 2026
খেলাপি ও বিলম্বিত বিচার যেভাবে বন্ডে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলেছে

অর্থনীতি

রফিকুল ইসলাম
19 April, 2026, 09:00 pm
Last modified: 19 April, 2026, 09:06 pm

Related News

  • আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে
  • জ্বালানি নিয়ে নৈরাজ্য চলছেই: জোড়-বিজোড় রেশনিংয়ের মতো পরিকল্পনা এখনো উপেক্ষিত
  • পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ফেরাতে ‘সংস্কার কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা সরকারের
  • ভারত থেকে পাইপলাইনে এল আরও ৫ হাজার টন ডিজেল
  • তেলের দাম কমল, লাফিয়ে বাড়ল শেয়ারবাজার: কী ঘটছে মার্কিন অর্থনীতিতে?

খেলাপি ও বিলম্বিত বিচার যেভাবে বন্ডে বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলেছে

রফিকুল ইসলাম
19 April, 2026, 09:00 pm
Last modified: 19 April, 2026, 09:06 pm

ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস

বাংলাদেশের বন্ড বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে পড়েছেন। কুপন পেমেন্টের স্থবিরতা, মেয়াদ শেষ হলেও মূল অর্থ ফেরত না পাওয়া—এসব সমস্যা তাদেরকে চাপে ফেলেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয় অনেক দেরিতে, সাধারণত ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ার পর।

এই সংকট আইনি প্রয়োগের দুর্বলতা, বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির ঘাটতি সামনে নিয়ে এসেছে, যা একসময় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে প্রচারিত এই খাতের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।

করপোরেট বন্ডকে অস্থির শেয়ারবাজার ও কম মুনাফার ব্যাংক আমানতের মাঝামাঝি একটি বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছিল—যেখানে নির্দিষ্ট কুপন, নির্দিষ্ট মেয়াদ এবং সম্পদভিত্তিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি ছিল। এই ধারণার ভিত্তিতে মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাংক, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এসব বন্ডে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে। তারা মনে করেছিল, এখানে ঝুঁকি সীমিত থাকবে, আর বাজারটি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিতও হবে।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি হচ্ছে—রিজেন্ট স্পিনিং মিলস, যা এখন বিলুপ্ত চট্টগ্রামভিত্তিক হাবিব গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রসারণের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি করপোরেট বন্ডের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। 

২০২০ সালে বন্ডের মেয়াদ শেষ হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো তাদের অর্থ ফেরত পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এবং বন্ডের ট্রাস্টি—ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)সহ বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

২০২০ সালের জুনে রিজেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি ঘোষণা করা হলেও অর্থ উদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় ২০২৪ সালের আগস্টে—চার বছর পর। ততদিনে হাবিব গ্রুপ ধসে পড়ে, কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ গ্রাউন্ডেড হয়। একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখে গ্রুপের শীর্ষ পরিচালকরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বেক্সিমকোর গ্রিন সুকুক আল ইস্তিসনায়। পাঁচ বছর মেয়াদি এই সুকুকের ৯৪ শতাংশ অর্থ এখনো পরিশোধ হয়নি—যদিও এর মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ট্রাস্টি ইতোমধ্যে মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের কার্যত এক দশকের জন্য আটকে রাখা হচ্ছে।

এর আগে বেক্সিমকোর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গ্রুপের আর্থিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে ২০২৬ সালের মধ্যে বন্ডের মূল অর্থ পরিশোধ করা "সম্ভব নয়", তবে পাঁচ বছর সময় বাড়ানো হলে পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে বেক্সিমকোর মালিক সালমান এফ রহমান একাধিক মামলায় কারাগারে থাকলেও—কোম্পানিটি এখনো সুকুক বিনিয়োগকারীদের মুনাফার কিস্তি পরিশোধ করছে।

অন্যদিকে, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার কনভার্টিবল বন্ডে বিনিয়োগ করা ৩২৫ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার করতে পারেনি আইসিবি। যদিও এর বিপরীতে জামানত ছিল, তবে এর ৮ বছরের মেয়াদও প্রায় শেষের দিকে।

করপোরেট বন্ডের ব্যর্থতা যেমন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা ও ট্রাস্টির ধীরগতির কার্যক্রমকে সামনে নিয়ে এসেছে, তেমনি ব্যাংক ইস্যুকৃত সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডে ভিন্ন—এবং সম্ভাব্যভাবে আরও প্রাতিষ্ঠানিক—ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই ধরনের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হলেও এসব বন্ডের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আলাদা: সংকটকালীন সময়ে ক্ষতি শোষণের জন্যই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।

বাস্তবে অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে অর্থ পরিশোধ না হওয়া এবং ব্যাংক একীভূতকরণের পর সৃষ্ট নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তার কারণে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আটকে গেছে।

আইসিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অর্থনীতি অধ্যাপক আবু আহমেদ টিবিএসকে বলেন, জামানত থাকায় বন্ডকে অনেক সময় ঝুঁকিমুক্ত মনে হয়। "তবে বেসরকারি করপোরেট বন্ড সবসময় ঝুঁকিমুক্ত নয়, বিনিয়োগকারীদের এটি মনে রাখা উচিত।"

তিনি আরও বলেন, বন্ডের সুদ বা মূল অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতা প্রধানত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাদের আর্থিক অবস্থান দুর্বল করে। "বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।"

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল এনফোর্সমেন্টের কারণে বন্ড বাজার পরিপক্বতা অর্জন করতে পারেনি। ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী শহীদুল ইসলাম বলেন, কুপন পরিশোধে বিলম্ব ও মূল অর্থ ফেরত না পাওয়াই বাজারের গভীরতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে উঠতে প্রধান বাধা।

তিনি বলেন, "ইস্যুকারীর দুর্বল আর্থিক অবস্থা জেনেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বন্ড অনুমোদন দিয়েছে। বেক্সিমকোর খেলাপির ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দেওয়া নিয়ন্ত্রক ব্যর্থতা।" তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯০-এর দশকেও বেক্সিমকোর ডিবেঞ্চার খেলাপি হয়েছিল।

শহীদুল আরও বলেন, আর্থিক তথ্য প্রকাশের দুর্বলতা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। "অথচ বিশ্বাসযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তাই নিয়ন্ত্রকদের আরও কঠোর হতে হবে, যাতে প্রতিবেদন বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।" তিনি যোগ করেন, কেবল আর্থিকভাবে স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বন্ড ইস্যুর অনুমতি দেওয়া উচিত।

বাজারের প্রবৃদ্ধি, আড়ালের ঝুঁকি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কমিশনের (বিএসইসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর পুনর্গঠিত কমিশন ব্যাংকসহ ২৪টি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে, যা মূলত নিয়ন্ত্রক মূলধন জোগান ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ব্যবহৃত হবে।

এর আগে আগের কমিশন তহবিল সংগ্রহের জন্য প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দেয়। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬টি বন্ডের মোট বাজার মূলধন ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ৩,৩৩৪ কোটি টাকা।

অনুমোদিত ৪১ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ব্যাংক খাত পেয়েছে সবচেয়ে বেশি—২৭,৩৫০ কোটি টাকা। উৎপাদন খাতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৬,৬০০ কোটি টাকা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ড বাজার থেকে ২,১০০ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়। আর এনজিওগুলোকে দেওয়া হয় ২,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমোদন। কেবল গ্রিন সুকুক বন্ডের পরিমাণই ৩,০০০ কোটি টাকা।

বিএসইসির তথ্যে দেখা যায়, সিটি সুগার মিল, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, সিডিআইপি, সাজিদা ফাউন্ডেশন, মীর আখতার হোসেন লিমিটেড, রানার অটো, প্রাণ অ্যাগ্রো এবং এনভয় টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছে।

তবে কুপন ও মূল অর্থ পরিশোধে ব্যাপক খেলাপি থাকলেও—নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ খেলাপির ডেটাবেজ নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর গত ২৮ জানুয়ারি এক সেমিনারে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাবই বাংলাদেশের করপোরেট বন্ড বাজার উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা। তার মতে, রেগুলেশনের (বিধিবিধান) দুর্বল প্রয়োগ বাজারে আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যেখানে কুপন পরিশোধ না করেও কোনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় না।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার ছাড়া বন্ড বাজার সম্প্রসারণের যেকোনো উদ্যোগই ব্যর্থ হবে। উন্নত বন্ড বাজারগুলোতে একটি কুপন পরিশোধে ব্যর্থতাও গুরুতর খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেয়, এটা সুনামহানির ঝুঁকিও তৈরি করে। "কিন্তু আমাদের দেশে কোনো কোম্পানি বন্ডের কুপন পরিশোধ না করলেও তেমন কোনো পরিণতি দেখা যায় না। যেন কেউ বিষয়টি গুরুত্বই দিচ্ছে না।"

দায়িত্ব ট্রাস্টির ওপর চাপাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা

বিএসইসির মুখপাত্র আবুল কালাম টিবিএসকে বলেন, কোনো বন্ড ইস্যুকারী কুপন বা মূল অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ট্রাস্টিকে সেটা কমিশনকে জানাতে হয়। তিনি বলেন, "কুপন ও মূল অর্থ পরিশোধ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেটি তদারকির দায়িত্ব ট্রাস্টির। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা বা লিকুইডেশনের (অবসায়ন) দরকার হলে ট্রাস্টি কমিশনকে অবহিত করবে, এরপর কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।"

রিজেন্ট স্পিনিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব ট্রাস্টির। যেকোনো সহায়তা প্রয়োজন হলে কমিশন পদক্ষেপ নেবে, এবং আইন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, "সিআইবি ডেটাবেজের মতো বন্ড খেলাপিদের একটি তথ্যভান্ডার তৈরির একটি উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।"

রিজেন্ট স্পিনিংয়ের পতন

২০১৫ সালে বিএসইসির অনুমোদন নিয়ে রিজেন্ট স্পিনিং ২০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করে। আইসিবি বন্ডের ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবং রেইসসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এতে অংশ নেয়। রেইস একাই বন্ডে মোট অর্থের ৭৫ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে।

২০২০ সালের জুনে ট্রাস্টি রিজেন্টকে খেলাপি ঘোষণা করে এবং বিনিয়োগকারীদের কুপন পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রেইসকে ওই বিনিয়োগের বিপরীতে একাউন্টিং প্রভিশন রাখতে হয়েছে।

এবিষয়ে টিবিএসকে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে রিজেন্ট জানায়, একসময় দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী হাবিব গ্রুপের অন্যতম অঙ্গপ্রতিষ্ঠান তারা। "বন্ড ইস্যুর পর শুরুর বছরগুলোতে গ্রুপটি নিয়মিত আর্থিক দায় পালন করেছে এবং বিনিয়োগকারীদের কুপন পরিশোধ করেছে। তবে পরবর্তীতে গ্রুপটি বড় ধরনের আর্থিক ধসের মুখে পড়ে, যা কোনো বন্ডের খেলাপির চেয়েও বহুদূর বিস্তৃত প্রভাব ফেলে।"

এর ফলে হয় মারাত্মক। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ও তাদের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। গ্রুপের শীর্ষ পরিচালকরা মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, বর্তমানে হাবিব গ্রুপের অবশিষ্ট অনেক সম্পদ আদালতের নির্দেশে অবসায়নের প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে, যাতে বিভিন্ন ঋণদাতা ও বন্ডধারীদের পাওনা পরিশোধ করা যায়।

২০২০ সালের জুনে খেলাপি ঘোষণা করা হলেও—চার বছর পর, ২০২৪ সালের আগস্টে এসে আইসিবি অর্থ উদ্ধারের মামলা করে। এর মধ্যে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে।

আইসিবির ট্রাস্টি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "বন্ডটির বিনিয়োগকারীদের অর্থ সুরক্ষায় আমরা মামলা করেছি, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।"

সি পার্ল কনভার্টিবল বন্ড

২০১৭ সালে সি পার্ল ২০ শতাংশ কনভার্টিবল বন্ডের মাধ্যমে ৩২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে, যেখানে সম্পূর্ণভাবে আইসিবি বিনিয়োগ করে। এই বন্ডের বিপরীতে হোটেলের সম্পদ বন্ধক রাখা হয় এবং কক্সবাজারে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা নির্মাণ ও ঋণ পরিশোধে অর্থ ব্যবহার করা হয়।

আট বছর মেয়াদি এই বন্ডে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড ছিল এবং কুপন হার ছিল ১০ শতাংশ। গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্বে ছিল।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও— মহামারিতে ক্ষতির অজুহাতে কোম্পানিটি তা পরিশোধে ব্যর্থ হয় এবং বারবার ছাড় চায়।

এবিষয়ে জানতে ফোন করা হলেও— তাতে সাড়া দেননি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।

সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডে অর্থ আটকে রয়েছে

ব্যাংক খাতে চারটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক—ইস্যুকৃত ৪,০১০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড এসব ব্যাংকের একীভূতকরণ ও পুনর্গঠনের কারণে কার্যত আটকে রয়েছে।

এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকের অংশই ১,৮৯০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত তাদের মূল অর্থ ফেরত পাবেন, তবে এতে সময় লাগতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা অন্তর্বর্তী ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু জানাননি, যা বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

Related Topics

টপ নিউজ

বন্ড বাজার / বাংলাদেশ / খেলাপি / বিনিয়োগকারী

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • পানামার পতাকাবাহী এমএসসি ফ্রান্সেসকা৷ ফাইল ছবি: বিবিসি
    শুক্রবার আসতে পারে নতুন শান্তি আলোচনার খবর: ট্রাম্প; হরমুজ থেকে ২ জাহাজ জব্দের দাবি আইআরজিসির
  • ছবি: সংগৃহীত
    ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর মালয়েশিয়ার জঙ্গল থেকে উদ্ধার: অবশেষে দেশে শরিয়তপুরের আমির হোসেন
  • জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: বাসস
    নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে কক্সবাজার-২ আসনের পরাজিত প্রার্থী জামায়াত নেতা আযাদের আবেদন
  • বিটিএসের সঙ্গে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক (মাঝখানে)। ছবি: ব্যাং সি-হিউকের ইনস্টাগ্রাম
    বিটিএসের প্রতিষ্ঠাতাকে কেন গ্রেপ্তার করতে চাইছে পুলিশ

Related News

  • আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে
  • জ্বালানি নিয়ে নৈরাজ্য চলছেই: জোড়-বিজোড় রেশনিংয়ের মতো পরিকল্পনা এখনো উপেক্ষিত
  • পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থা ফেরাতে ‘সংস্কার কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা সরকারের
  • ভারত থেকে পাইপলাইনে এল আরও ৫ হাজার টন ডিজেল
  • তেলের দাম কমল, লাফিয়ে বাড়ল শেয়ারবাজার: কী ঘটছে মার্কিন অর্থনীতিতে?

Most Read

1
পানামার পতাকাবাহী এমএসসি ফ্রান্সেসকা৷ ফাইল ছবি: বিবিসি
আন্তর্জাতিক

শুক্রবার আসতে পারে নতুন শান্তি আলোচনার খবর: ট্রাম্প; হরমুজ থেকে ২ জাহাজ জব্দের দাবি আইআরজিসির

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর মালয়েশিয়ার জঙ্গল থেকে উদ্ধার: অবশেষে দেশে শরিয়তপুরের আমির হোসেন

3
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: বাসস
বাংলাদেশ

নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে কক্সবাজার-২ আসনের পরাজিত প্রার্থী জামায়াত নেতা আযাদের আবেদন

4
বিটিএসের সঙ্গে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক (মাঝখানে)। ছবি: ব্যাং সি-হিউকের ইনস্টাগ্রাম
আন্তর্জাতিক

বিটিএসের প্রতিষ্ঠাতাকে কেন গ্রেপ্তার করতে চাইছে পুলিশ

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net