সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব ‘আত্মঘাতী’: বিজিবিএ
বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) বলেছে, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা বাতিলের বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব করেছে, তা দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ওপরও এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরায় সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাবকে 'আত্মঘাতী' বলে উল্লেখ করেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে তারা বন্ডেড সুবিধা বাতিল না করে দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোকে সহায়তার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বিজিবিএ সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, প্রস্তাবিত এই সিদ্ধান্ত তৈরি পোশাক খাতকে "মৃত্যুর কিনারায়" ঠেলে দিয়েছে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সুতা আমদানিতে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টেক্সটাইল মিল মালিক ও পোশাক প্রস্তুতকারকদের মধ্যে বিরোধ চলছে।
গত ১২ জানুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি চিঠিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহার করতে বলে। মন্ত্রণালয় মনে করে, শুল্কমুক্ত আমদানির কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে এবং দেশীয় উৎপাদনকারীদের সুরক্ষায় এই সুবিধা স্থগিত করা উচিত।
তবে তৈরি পোশাক খাতের নেতারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ একতরফা বলে উল্লেখ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাতের একাধিক সংগঠন সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং সরকারকে চিঠি দিয়েছে।
ক্রেতারা শঙ্কিত উল্লেখ করে মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, 'বড় বড় রিটেইলার শঙ্কিত নিরাপত্তার কারণে। দেশে মব হচ্ছে। নিরাপত্তা নেই। রিটেইলাররা ২০২৬ সালের ক্রয়াদেশগুলো অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলে দিয়েছে। আজ নিরাপত্তা না দিতে পারলে ক্রেতা কেন বাংলাদেশে ক্রয়াদেশ দেবে? প্রতিযোগী দেশগুলো ঢালাওভাবে বাংলাদেশের খারাপ অবস্থা প্রচার করছে। ক্রেতারা বাংলাদেশে সফরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিয়েছে।'
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিযোগী দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে। এমনকি কিছু ক্রেতা বাংলাদেশে সফরের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, তৈরি পোশাক খাতে কোনো সমস্যা হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বায়িং হাউসগুলোর ওপর। কারণ, বায়িং হাউস বিদেশি ক্রেতা ও স্থানীয় কারখানার মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে।
বন্ডেড সুবিধা তুলে নেওয়ার বিরোধিতা করে টেক্সটাইল খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে তিনি সরকারকে প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার যদি স্পিনিং খাতকে স্বনির্ভর করে তুলতে পারে, তাহলে পোশাক কারখানাগুলো দেশীয় বাজার থেকেই আরও কম দামে সুতা কিনতে পারবে।
মোফাজ্জল হোসেন পাভেল আরও বলেন, আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা হলো—টেক্সটাইল ও পোশাক খাত-সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে সব সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করা, কেবল কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে নয়।
তিনি বলেন, যৌথ আলোচনা হলে মূল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই সমাধান পাওয়া সম্ভব হবে।
মোফাজ্জল হোসেন পাভেল বলেন, স্পিনাররা যখন বন্ডেড সুবিধা তুলে নেওয়ার দাবি করছে, তখন বোঝা যায় তারাও সমস্যায় আছে। আবার বন্ডেড সুবিধা বন্ধ হলে পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান আসতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শুরুতে কিছু গোষ্ঠী লাভবান হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত নেতিবাচক হতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানি আদেশ কমে গেলে তার প্রভাব টেক্সটাইল খাতেও পড়বে।
