অর্থবছরের মাঝামাঝি কর বাড়ানো হবে না: এনবিআর
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে নতুন কোনো কর আরোপ বা বিদ্যমান করছাড় প্রত্যাহার করা হবে না।
সম্প্রতি ঢাকায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এনবিআর জানিয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ বছরের মাঝামাঝি কোনো কর বৃদ্ধি বা হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করবে না।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের বিদ্যমান সানসেট নীতির আওতায় নির্ধারিত মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর ছাড় অব্যাহত থাকবে। তারা আরও বলেন, সব পণ্য ও সেবার ওপর একযোগে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়, কারণ এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং অত্যাবশ্যকীয় খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আইএমএফ আমাদের কর বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু আমাদের নিজস্ব কর নীতিমালা রয়েছে, এবং শুধুমাত্র তাদের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা সেই নীতির বাইরে গিয়ে কর বৃদ্ধি করব না।"
তিনি জানান, সরকার গত জানুয়ারিতে রাজস্ব বৃদ্ধি করতে আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী প্রায় ১০০টি পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করেছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বারবার নেওয়া সম্ভব নয়।
"একবার কর বাড়ানো মানে এই নয় যে আমরা বারবার তা করতে পারব। এটি যদি নিয়মে পরিণত হয়, তাহলে রাজস্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে," বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
৩০ অক্টোবর আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত এক এনবিআর কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, আইএমএফ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাঠামোগত সংস্কার অব্যাহত থাকবে, তবে চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন কোনো কর আরোপ করা হবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্য ও সেবা ইতোমধ্যেই ১৫ শতাংশ ভ্যাটের আওতায় রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, রেমিট্যান্স সংশ্লিষ্ট সেবা, পোলট্রি ও মৎস্য খাত, এবং কিছু স্বাস্থ্যসেবা কম হারে করযোগ্য বা করমুক্ত।
তিনি বলেন, "এসব খাতে একযোগে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যাবে।"
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আইএমএফ দলকে জানানো হয়েছে, সরকার হঠাৎ করে নয়, বরং ধীরে ধীরে একটি স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট কাঠামোর দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।
৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ অনুমোদনের সময় আইএমএফ কর আদায়, ব্যাংক খাত, ভর্তুকি সংস্কার এবং আর্থিক শাসনব্যবস্থা–সহ প্রায় ৩০টি সংস্কার শর্ত নির্ধারণ করেছিল। বাংলাদেশ এর কিছু খাতে অগ্রগতি অর্জন করলেও রাজস্ব প্রবৃদ্ধি এখনো আইএমএফের প্রত্যাশার চেয়ে কম। এতে সন্তুষ্ট নয় আন্তর্জাতিক আর্থিক এই সংস্থা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আইএমএফ আশা করেছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি প্রায় ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। তবে উন্নতির বদলে অনুপাত কমে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যার ফলে এনবিআরের কর্মক্ষমতা ও কর সংস্কার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
