বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ ৮ মাসে সর্বনিম্ন, ৯.৫৫ বিলিয়ন ডলার
চলতি বছরের আগস্টে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি আবারও ১০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
আগস্ট মাসের শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯.৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা এ বছরের জানুয়ারিতে ছিল ৯.৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালের আগস্টে এই ঋণের স্থিতি ছিল ১১.১৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ঋণ ১৪.৫৮ শতাংশ কমেছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার চাহিদা কমেছে। বিশেষ করে বায়ার্স ক্রেডিটের মাধ্যমে আমদানি এলসি খোলা কমার কারণে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণ কমেছে। বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির এলসি খোলা কমেছে। ফলে পর্যাপ্ত ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকার পরও স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের স্থিতি কমেছে।
বায়ার্স ক্রেডিট হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে কোনো আমদানিকারক পণ্য কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন এবং পরে তা পরিশোধ করেন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, 'স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ তো বাণিজ্য-সংক্রান্ত অর্থায়ন, যা চাহিদা কমার কারণে কমেছে। বিনিয়োগ কমে যাওয়ার কারণে ঋণ কম নেওয়া হতে পারে। তাছাড়া বায়ার্স ক্রেডিট কমে যাওয়ার কারণে এ খাতে ঋণের পরিমাণ কমেছে।'
তিনি আরও বলেন, 'ডলার ও রিজার্ভ সংকট আগে ছিল। এটার কারণে আগে চাহিদা থাকার পরেও বিদেশ থেকে ঋণ এসেছে কম। তবে সে সময় স্বল্পমেয়াদি ঋণের চাহিদা ছিল। তবে এখন সেই ডলার সংকট নেই, আর রিজার্ভের অবস্থাও আগের চেয়ে ভালো। তাই আশা করা যায়, সামনে হয়তো চাহিদা বাড়লে ঋণ পাওয়া যাবে।'
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এলসি খোলা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই বায়ার্স ক্রেডিট কমে যায়। আগের চেয়ে এলসি খোলা কমেছে, যে কারণে বায়ার্স ক্রেডিট কমেছে। তাছাড়া সোফর রেট আগে বেশি ছিল। এখন এই রেট আগের থেকে কমে আসার কারণে সামনে বাড়তে পারে।'
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও চলতি বছরের আগস্টে এলসি নিষ্পত্তি কমে গেছে। এ বছরের আগস্টে আমদানি দায় নিষ্পত্তি কমে ৪.৮৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই মাসে ছিল ৫.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১০.৯৪ শতাংশ।
চলতি বছর আগস্টে বায়ার্স ক্রেডিটের পরিমাণও সবচেয়ে কম ছিল—৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সাল শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬.৪২ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালে কমে দাঁড়ায় ১১.৮০ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৪ সাল শেষে তা কমে দাঁড়ায় ১০.১৩ বিলিয়ন ডলার।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ এসেছে ১.৪২ বিলিয়ন ডলার। আর এ সময় এ খাত ঋণ পরিশোধ করেছে ১.৮৯ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, চলতি অর্থবছর প্রথম দুই মাসে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ।
