বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কাজ: পোশাক পর্যবেক্ষণ এবং ফ্যাশন নির্দেশনা
বাংলাদেশ ব্যাংক। স্বৈরাচারের পতন হয়ে গেছে প্রায় এক বছর। এখন আর প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন ঘরে হানা দিয়ে বিভিন্ন নীতি পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন না। ডিজিএফআই এসে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ কেমন হবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী গভর্নরকে ডেকে সুদের হারসহ বিভিন্ন হার ঠিক করে দিচ্ছেন না।
এই প্রায় এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ছিন্নভিন্ন ব্যাংকিং সেক্টরকে মেরামত করে ফেলেছে। ডলারের অভাব নেই। টাকার অভাব নেই। পুরো ব্যাংকিং সেক্টর এখন দুর্দান্তভাবে কাজ করছে। এখানে আর নতুন কিছু করার নেই। অর্থনীতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। ব্যবসায়ীরা ঋণ নিচ্ছেন। ব্যাংকগুলো একদম দুর্দান্ত সুস্থ। কোথাও নতুন কোনো সিদ্ধান্তের প্রয়োজন নেই।
দেশের রিজার্ভ এখন এত ভালো যে সকাল-বিকাল ডলারের কল ছেড়ে গোসল করা যায়।
মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন করার মতো কোনোই কাজ নেই।
কর্মকর্তারা অফিসে আসেন। কেউ কেউ বসে সময় নষ্ট করেন। কাজপাগলা কিছু কর্মকর্তা হারিকেন দিয়ে টেবিলের নিচে আলমারির ফাঁকে কাজ খোঁজেন—কিন্তু কোনো কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না।
কিন্তু এই সৎ কর্মকর্তারা কাজ না করে বেতন নিতে নিতে প্রচণ্ড অপরাধবোধে ভুগছেন। স্বৈরাচারের আমলে তাদের যখন কাজ করতে দিত না, তখন একরকম সমস্যা ছিল। ওই সময় তারা সময় ক্ষেপণের জন্য সাংবাদিকদের ব্যাংকে ঢুকতে না দেয়া, সাংবাদিকদের হেনস্তা করা ইত্যাদি করেছিলেন। তবে মূলত তখন কিছু কর্মকর্তাদের দম ফেলার সময় থাকত না। তারা বাটপারদের জন্য ফন্দি-ফিকির বের করে দিতেন কীভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে লুট করা যায়; বিনিময়ে নিজেও কিছু বানিয়ে নিতে পারেন ইত্যাদি!
কিন্তু এখন স্বৈরাচারমুক্ত দেশ! এই সময় কাজ না থাকলে সাংবাদিকদের হেনস্তা করাটা ঠিক মানায় না! আর কাউকে ব্যাংকিং খাত লুট করার বুদ্ধিও দেয়া যাচ্ছে না! তাহলে কীভাবে তারা কাজ না করে বেতন হজম করবেন?
ঠিক এই সময়, কোনো এক বিজ্ঞ কর্মকর্তা খেয়াল করলেন: আশ্চর্য তো! এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মহিলা কর্মকর্তারা বেশ উল্টাপাল্টা পোশাক পরে অফিসে আসছেন! এমনকি কিছু কিছু পুরুষ কর্মকর্তারাও বাজে পোশাক পরে আসছেন!
এই যেমন সেদিন ইলিয়াসুদ্দীন সাহেব অফিসে হাফ প্যান্ট আর ছেঁড়া গেঞ্জি পরে এসেছিলেন! ওনার নাকি অনেক গরম লাগে—তাই এমনটা পরে এসেছিলেন!
ওদিকে গুলশান বেগমও কম যান না। গরমের অজুহাতে উনি মিনি স্কার্ট আর গেঞ্জি পরে এসেছিলেন!
এসব বরদাশত করা যায়? ওদের দুজনকে ডেকে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাবধান করে দিলেন: মার্জিত পোশাক পরে অফিসে আসতে হবে!
কিন্তু এর মধ্যে অশালীন পোশাক পরাটা ভাইরাল হয়ে গেছে! একের পর এক মহিলারা উল্টাপাল্টা পোশাক পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আক্রমণ করছে! পুরুষরাও কম যায় না! সেদিন আলিম সাহেব লুঙ্গি পরে এসেই ক্ষান্ত হননি; উনি লুঙ্গি কাছা দিয়ে ব্যাংকের ডাব গাছে উঠে ডাব পেড়েছেন!!
এগুলা তো মেনে নেয়া যায় না!
অতঃপর ব্যাংকের কর্মহীন বিজ্ঞ কয়েকজন কর্মকর্তা ঠিক করলেন এই আঙিনায় একটা পোশাক ও ফ্যাশন-সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকা উচিত। পুরুষ আর বিশেষ করে মহিলারা যেন শালীন পোশাক পরে অফিসে আসেন, এই বিষয়ে ওনারা একটি নির্দেশনা জারি করলেন।
একটা মুসলিমপ্রধান দেশে অশ্লীল পোশাক পরে বাংলাদেশ ব্যাংকে মহিলারা আসবেন, মেনে নেয়া যায় না! এটার বিরোধিতা যে করবে, সে আসলে নগ্নতাকে সাপোর্ট করে! এর বিরোধী তারাই, যারা নগ্ন কিংবা অল্প কাপড় পরে অফিসে যাওয়া-আসা করে।
হ্যাঁ। আমরা রাস্তাঘাটে সর্বত্রই দেখি যে সকল অফিসে মানুষ অশ্লীল পোশাক পরে যাওয়া-আসা করছে। মহিলারা পারলে বিকিনি পরে প্রশাসনিক কাজ করছেন; ব্যাংকে, হসপিটালে কিংবা স্কুলে দৌড়াদৌড়ি করছেন। লোকগুলোও অশ্লীলভাবে খালি গায়ে পেট চুলকাতে চুলকাতে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায় করছেন!
এই ড্রেস কোড সর্বত্র দরকার!
কাজ যেহেতু নেই, সেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের যারা এমন ফ্যাশন নির্দেশনা দিয়েছেন, তাদের নিয়ে একটা নতুন বিভাগ তৈরি করা যায়: বাংলাদেশ ব্যাংক পোশাক নির্দেশনা শাখা।
এরা সারা দেশে পোশাক এবং ফ্যাশন অডিট করবে—এবং দিকনির্দেশনা দেবে। যারা এইসব নির্দেশনা মানবে না, তাদের সপাং সপাং করে দোররা দেয়া হবে! এর ফলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের শনৈ শনৈ উন্নতি হবে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেরসিক গভর্নর এই নির্দেশনার কথা শুনে সেটাকে বাতিল করে দিয়েছেন।
ইহা বাতিল করিয়া দেয়ায় ফেসবুকে শালীন পোশাক সমর্থক গোষ্ঠী গভর্নরকে উদ্ধার করে কমেন্ট করেছেন এখন বাংলাদেশ ব্যাংকে সব নেংটা জনগোষ্ঠী ঘোরাঘুরি করিবে!
নির্দেশনার অভাবে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের সর্বত্র অশ্লীল পোশাক পরে মানুষজন ঘোরাঘুরি করছেন—এটার আমি প্রতিবাদ করি!
সবাইকে এটা মানতেই হবে যে, গুটিকয়েক নৈতিক কর্মকর্তা ব্যতীত বাংলাদেশের কোনো নারী-পুরুষ সঠিক পোশাক পরিধান করার নিয়ম জানেন না! তাই ওনারা ঠিক করে দেবেন আমরা কী পরিধান করব, আর আমরা তা পালন করব!
অবিলম্বে সরকারের উচিত একটি ফ্যাশন মন্ত্রণালয় খুলে পুরো দেশে শালীন পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করে দেয়া! এই পোশাকের বাইরে অন্য কিছু পড়লে তাদের বেত্রাঘাত করা যেতে পারে! ফেসবুক কমেন্টারদের খুশি করতে হবে!
- বি:দ্র: এটা একটা স্যাটায়ার। সিরিয়াসলি নেবেন না।
