‘স্থানীয় বাজারে ভোজ্য তেলের কোনও ঘাটতি নেই’: ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন
রাজধানীতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া না গেলেও 'স্থানীয় বাজারে ভোজ্য তেলের কোন ঘাটতি নেই' বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন। বাজারে যে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না, এটি কৃত্রিম ও প্রকৃত তথ্যের ঘাটতির কারণে এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর বাজারগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকী নামি-দামি সুপারশপগুলোতেও ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের বোতল খুঁজে পাননি ক্রেতারা।
এ অবস্থায় আজ রোববার ভোজ্যতেলের বাজারে সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিশেষ সভা করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) চেয়ারম্যান ড. মইনুল খান। সভায় শীর্ষ ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ভোজ্যতেলের আমদানি প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, এলসিও বেড়েছে একই হারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য স্থিতিশীল। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি পরিস্থিতি— স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দামের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা দেয়।
এতে বলা হয়েছে, ''স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের কোন ঘাটতি নেই। যেটি হয়েছে এবং প্রকৃত তথ্যের ঘাটতি থেকে সৃষ্ট।''
ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় উৎপাদন ও বিপণনের সকল পর্যায়ে বাজার মনিটরিং করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে বিটিটিসি।
কোনও কোনও কোম্পানি অন্য পণ্য কেনার শর্তে ভোজ্যতেল বাজারজাত করে থাকে। উৎপাদক বা কোন পর্যায়ে এ ধরণের শর্তযুক্ত বিক্রি প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে সংস্থাটি বলেছে, এ ধরণের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একইসঙ্গে ভোজ্যতেলের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য হচ্ছে কিনা, তা সীমান্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও সংস্থাগুলোকে খতিয়ে দেখতে পরামর্শ দিয়েছে বিটিটিসি।
সভায় উৎপাদনকারীরা জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় তারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়েছেন।
সভায় সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি অমিতাভ চক্রবর্তী জানান, সিটি গ্রুপ গত জানুয়ারিতে ৫০ হাজার ৭০০ টন তেল সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে ২২ হাজার ২৪২ টন বোতলজাত। গতবছর একই সময়ে তারা বোতলজাত তেল সরবরাহ করেছিল ১৪ হাজার ২৬২ টন।
মেঘনা গ্রুপের প্রতিনিধি জিএম তসলিম শাহরিয়ার জানান, জানুয়ারিতে তারা ৪৭ হাজার ৬৬৮ টন তেল সরবরাহ করেছে, যার মধ্যে বোতলজাত তেলের পরিমাণ ১৫ হাজার টন। আগের বছরের জানুয়ারিতে মোট ২৫ হাজার টনের মধ্যে ১২ হাজার টন বোতলজাত তেল সরবরাহ করেছিল গ্রুপটি।
টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতাহার তসলিম জানান, গত জানুয়ারিতে মোট ১১ হাজার ৮১০ টন বোতলজাত সয়াবিন সরবরাহ করেছে, আগের বছরের জানুয়ারিতে এটি ছিল সাড়ে ৯ হাজার টন। অন্যান্য উৎপাদনকারীরাও তেল সরবরাহ বাড়ানোর তথ্য তুলে ধরেন।
এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিটিটিসি জানায়, গত বছরের জানুয়ারির তুলনায়— এবছরের জানুয়ারিতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
ব্যবসায়ীরা জানান, বেশকিছু ভোজ্যতেল ভর্তি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করার অপেক্ষায় আছে। এগুলো থেকে খালাসের পর খুব শিগগিরই স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করা হবে। পাইপলাইনে থাকা ভোজ্যতেলের পরিমাণ দেড় লাখ টন।
বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে কেউ কেউ অতিরিক্ত মজুদ করে থাকতে পারে, আবার কেউ কেউ অধিক লাভের আশায় – বোতল কেটে খোলা তেলে পরিণত করে তা বিক্রি করতে পারে। আবার, প্রতিবেশী দেশে দাম বেশি হওয়ায়— অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য (পাচার) হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন তারা।
