তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ

তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের সুপারিশের পর আশাবাদী বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২৫ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর তাদের ২২ তম প্রতিবেদন ভারত সরকারের কাছে জমা দিয়েছে কমিটি। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ব্যাপারে অর্থবহ সংলাপ শুরু করতে ভারত সরকারকে সুপারিশ করেছে কমিটি। তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমাদের দিল্লিস্থ মিশন থেকেও আমরা এ ব্যাপারে জেনেছি। বিষয়টি অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
সেহেলী সাবরিন বলেন, 'ওই সংসদীয় কমিটিতে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ ভারতের সব রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য আছেন। তাই এ ধরনের একটি সুপারিশ আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এই সুপারিশকে উদ্ধৃত করে বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগামী দিনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আমরা আশা করি।'
এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসংক্রান্ত অন্তর্বর্তী চুক্তি শেষ করতে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়ে নিষ্পত্তি করতে অনুরোধ করেন। যার খসড়া ২০১১ সালে চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও নদ-নদীর দূষণের মতো সমস্যাগুলো মোকাবিলায় এবং অভিন্ন নদীগুলোর ক্ষেত্রে নদীর পরিবেশ এবং নদীর নাব্য উন্নত করার জন্য কর্মকর্তাদের একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সম্প্রতি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে যোগদানের জন্য অপেক্ষা করছেন।
গত ২৫ জুলাই সংসদের রাজ্যসভা, লোকসভা, উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষে সব দলের আইন প্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত স্থায়ী কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপার্সন বিজেপির পিপি চৌধুরী। এ ছাড়া কংগ্রেসের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, টিএমসি-র অভিষেক ব্যানার্জি, বিজেপি সংসদ সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত এবং রাজ্যসভা ও লোকসভার সংসদের আরও ২৭ জন সদস্য কমিটির মিডিয়া রিপোর্ট করেছেন।
প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি বিশেষ অধ্যায় রয়েছে।