অবিলম্বে কারা চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের, ১ মাস সময় বেধে দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে
দেশের কারাগারগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগে বিলম্ব করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত শুনানিতে মঙ্গলবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেন আদালত।
শুনানিতে তাদের উদ্দেশ্য করে আদালত বলেছেন, ক্ষমতা অপব্যবহারের জন্য না, ক্ষমতা মানুষের সেবার জন্য।
বিচারক কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারক মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
একইসঙ্গে দেশের কারাগারগুলোতে শূন্যপদে চিকিৎসক নিয়োগ দিতে একমাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের (এসসি) আইনজীবী মো. জে আর খান রবিন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. জে আর খান রবিন। কারা অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান।
শুনানির শুরুতে রিটের পক্ষের আইনজীবী জে আর খান রবিন বলেন, কারাগারে শূন্যপদে এখনও চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তখন আদালত বলেন, "বাংলাদেশে তো ডাক্তারের অভাব নেই। এমনকি সড়কেও তাদের দেখা মিলতে পারে। বেসরকারি মেডিকেল থেকেও অনেকে ডাক্তারি পড়ছেন।"
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ১৪১ পদের মধ্যে ১২৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
আদালত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কারা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নির্দেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আদালত বলেন, ক্ষমতা অপব্যবহারের জন্য না, "ক্ষমতা মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। এটা মনে রাখবেন।"
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আদালতের কাছে পেশ করা হয়, দেশের ৬৮টি কারাগারে ১৪১টি খালি পদের বিপরীতে ১১২ জন চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাকি পদগুলোতেও দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেন আদালত। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি।
পরে এক আপিল শুনানিতে আদালত কারাগারের মহাপরিদর্শক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গতবছরের ১৩ ডিসেম্বর সে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
