রাষ্ট্রচালিত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগ ২২ বিলিয়ন ডলার
রাষ্ট্র পরিচালিত অর্থনৈতিক অঞ্চল- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সাবরাং পর্যটন পার্ক এ পর্যন্ত প্রায় ২২.১৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৩ অক্টোবর) ঢাকায় এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন জানান, দেশ-বিদেশের প্রায় ১৭৭ বিনিয়োগকারী পাঁচটি অঞ্চলে ৬ হাজার ৮৪ একর জমিতে পোশাক থেকে শুরু করে নানা ধরনের বিস্তৃত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করেছেন।
এই বিনিয়োগের ফলে প্রায় ৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার (২৬ অক্টোবর) বেসরকারি ও সরকার পরিচালিত ৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৫০টি কারখানা ও অবকাঠামোর নির্মাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
তিনি বলেন, "সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। যদিও বর্তমানে বৈশ্বিক সংকটের কারণে আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে; আশাকরি, রূপপুর ও মাতারবাড়িতে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র সমাধান নিয়ে আসবে।"
বেজা ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ আয়োজনে আলোচনায় অংশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ফারুক বলেন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২৯টি কারখানা ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেছে। আরও প্রায় ৬১টি কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, "উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে জাপান, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং নরওয়ে থেকে।" তিনি আরও জানান, বেজা বিনিয়োগকারীদের ওয়ান স্টপ পরিষেবা প্রদান করছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইআরএফের সভাপতি শারমিন রিনভী ও সাধারণ সম্পাদক এস এম রশিদুল ইসলাম প্রমুখ।
রাষ্ট্রচালিত পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল
বেজা জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে ম্যাকডোনাল্ড স্টিল, নিপ্পন অ্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড স্টিল, এশিয়ান পেইন্টস এবং সমুদা কনস্ট্রাকশন- এই চারটি শিল্প ইতোমধ্যেই তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় ৩০ হাজার একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে নির্মাণ করা হচ্ছে আরও নয়টি কারখানা।
এর মধ্যে, জেনিস ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিনিয়োগ করেছে ৩৫ মিলিয়ন ডলার; এই বিনিয়োগ দিয়ে কোম্পানিটি প্রিফেব্রিকেটেড স্ট্রাকচারাল স্টিল উত্পাদন করবে। অন্যদিকে, জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নিপ্পন অ্যান্ড ম্যাকডোনাল্ড স্টিল স্ট্রাকচারাল স্টিল প্লেট তৈরিতে ১৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
ভারতীয় কোম্পানি এশিয়ান পেইন্টসের বিনিয়োগ ৩৪ মিলিয়ন ডলার এবং টিকে গ্রুপের নির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারক সমুদা কনস্ট্রাকশণের বিনিয়গের পরিমাণ ৮.২ মিলিয়ন ডলার।
এদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় চা জেলা মৌলভীবাজারের ৩৫২ একর শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে ডিবিএল গ্রুপকে ডিবিএল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নির্মাণের জন্য ১৬৭.৬ একর জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিরামিক টাইলস, স্যানিটারি ওয়্যার, গ্লাস, টেক্সটাইল আইটেম ইত্যাদি উত্পাদন করতে বিনিয়োগ করছে ৬৫০ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া, আব্দুল মোনেম লিমিটেড ১৯ একর এবং ডাবল গ্লেজিং ৩ একর জমি পেয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলে। ডাবল গ্লেজিং এরই মধ্যে শব্দ কম হয়, এমন দরজা ও জানালার উৎপাদন শুরু করেছে।
৪৩৬ একরের জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৫ বিনিয়োগকারী প্রায় ১৭৪ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬২ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে তিনটি কারখানা- এমএজেড টেক্সটাইল, রেসাস্কেমি বাংলাদেশ এবং সিল্কেন ফেব্রিকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
বেজার তথ্যে আরও জানা যায়, কক্সবাজারে ১ হাজার ২৭ একর জমির সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক এ পর্যন্ত ১৭ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রায় ২৭১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। তাদেরকে ইতোমধ্যে ৮১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এরমধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানিই নিজেদের সাইট নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে বেজা। সরকার ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন দিয়েছে; এরমধ্যে বর্তমানে ২৮টি অঞ্চল নির্মাণাধীন।
এখন পর্যন্ত ১২টি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিচালনার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে।
