হরতাল বাড়ছে না, ২ এপ্রিল হেফাজতের প্রতিবাদ সমাবেশ
আজ রোববার সকালে যদিও হেফাজতে ইসলামের দুই শীর্ষ নেতা চলমান হরতালের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন, তবে সংগঠনটির মহাসচিব নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, হরতাল বাড়বে না; তবে ২ এপ্রিল একটি প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে।
আজ দিনব্যাপী হরতাল পালন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে হেফাজত নেতা বলেন, 'শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ১৭ জন হেফাজতকর্মী খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, চারজন চট্টগ্রামে এবং একজন ঢাকায়।'
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, 'আমাদের কর্মীদের যারা খুন করেছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। নিহতদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।'
এইসব সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক হেফাজত কর্মী আহত এবং ২০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
হেফাজতের প্রচারণা সম্পাদক মাওলানা নোমান ফারাজি বলেন, "আজ রোববার সারাদেশে আহবান করা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে। তবে আগামীকাল পবিত্র শবে বরাত হওয়ায় চলমান হরতালের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।"
এর আগে গত শুক্র ও শনিবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে হেফাজত কর্মীরা। এসময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন কর্মী মারা গেলে আজ রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করে ইসলামি সংগঠনটি।
আজ সকাল থেকেই ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ভাংচুর চালায় হেফাজতের কর্মীরা। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দু'জন হরতাল সমর্থক মারা গেছে, আহত হয়েছে কয়েক ডজন।
হেফাজত কর্মীরা ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় বেশকিছু সরকারি দপ্তর, ব্যাংক এবং বেসরকারি স্থাপনা ভাংচুর ও অগ্নি-সংযোগ করে। তারা চট্টগ্রামগামী ট্রেনে পাথর নিক্ষেপও করে। এক সময় বাধ্য হয়েই ওই রুটে রেল যোগাযোগ স্থগিত রাখেন কর্তৃপক্ষ। জেলার সরাইল উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে আজ সারাদিনে।
