বাসচাপায় পা হারানো রাসেলকে আরও ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো কারচালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ২০ লাখ টাকা দিতে পরিবহন কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই টাকা এককালীন হিসাবে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। আর টাকা দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে- তা লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন আদালত।
রায়ের বিষয়টি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেন আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এ রায় দিয়েছেন।
রিট আবেদনকারী ও গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষের সম্মতিতে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন- উভয়পক্ষের আইনজীবীরা।
এর আগে গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষ রাসেল সরকারকে মোট ১৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা দেয়। দুই কিস্তিতে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা এবং চিকিৎসা বাবদ তিন লাখ ২৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এই রায়ের ফলে তাদের এখন আরও ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। সম্মতিতে থাকায় এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন না বলে জানিয়েছেন, গ্রীন লাইনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক।
মঞ্জুরুল হক জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিষয়টি গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তারা এই রায় মেনে নিয়েছেন। এবং দ্রুত ২০ লাখ টাকা রাসেলকে দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
হাইকোর্টের এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, রাসেল সরকার। জরিমানার অর্থ দ্রুত পেলে তার জন্য পরিবার-পরিচালনা সহজ হবে, বলে জানান তিনি।
২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে গ্রীন লাইন পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয় রাসেলকে। যাতে তিনি পা হারান।
এঘটনায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম একটি রিট করেন। যার প্রেক্ষিতে একই বছরের ১৪মে হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে রাসেলকে কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের মার্চে হাইকোর্ট এক আদেশে রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা দিতে এবং প্রয়োজন হলে তার পায়ে অস্ত্রোপচার ও কাটা পড়া বাঁ পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম পা লাগানোর খরচ বহন করতে গ্রীন লাইন পরিবহনকে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর গ্রীনলাইন কর্তৃপক্ষ রাসেলকে কয়েক দফায় মোট ১৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা দিয়েছিল।
পরে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে গ্রীন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে আপিল বিভাগ প্রতি মাসে রাসেলকে ৫ লাখ টাকা করে কিস্তিতে গ্রীন লাইন কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করতে দেওয়া পূর্বের আদেশ স্থগিত হয়। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রুল নিষ্পত্তি করে আরও ২০ লাখ টাকা রাসেলকে দিতে রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।
