কক্সবাজারে করোনায় প্রাণ হারালেন সাংবাদিক মোনায়েম খান
পর্যটন উদ্যোক্তা ডালিমের পর এবার করোনাভাইরাসের শিকার হলেন কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল মোনায়েম খান (৫৪)।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বেলা তিনটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হাসপাতালে সঙ্গে থাকা তার স্ত্রীর ভাই জয়নাল আবেদীন সাংবাদিক মোনায়েম খানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
সাংবাদিক আবদুল মোনায়েম খান কক্সবাজার শহরের তারাবনিয়ার ছরা কবরস্থান রোডের মরহুম কানুনগো বদিউল আলমের বড় ছেলে। তিনি ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার, নিউ এইজ, ডেইলি সান পত্রিকার পর ডেইলি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এ ছাড়াও কক্সবাজারের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কক্সবাজার, আজকের দেশ-বিদেশ, দৈনিক বাঁকখালী, দৈনিক দৈনন্দিনসহ একাধিক পত্রিকায় নানা পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সিনিয়র সদস্য ছিলেন।
সদা হাস্যোজ্বল ও মিতভাষী মোনায়েম খান সবার সঙ্গে বন্ধুবৎসল আচরণ করতেন বলে অজাতশত্রু হিসেবে দীর্ঘদিন কালিমামুক্ত থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি মে মাসের মাঝামাঝি থেকে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন। সঙ্গে তার ছেলে কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র মোহাইমেনও অসুস্থ হওয়ায় ৩০ মে পিতা-পুত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৩১ মে আবদুল মোনায়েম খান ও সন্তান মোহাইমেনের করোনা 'পজিটিভ' রিপোর্ট আসে।
১ জুন রাতে আবদুল মোনায়েম খানকে উখিয়া এনজিও পরিচালিত আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে ৩ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে শুক্রবার তার শারিরীক অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
ওইদিন বিকেলে কক্সবাজারের সহকর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির কথা জানিয়ে সবার কাছে দোয়াও চান তিনি। এ সময় সবার ধারণা ছিল, তিনি করোনা কাটিয়ে ওঠার পথে রয়েছেন।
কিন্তু শনিবার দিবাগত রাতে মোনায়েম খানের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন হতে শুরু করে। তার শরীরে অক্সিজেন সিসুরেশনের মাত্রা ৬০-৪০-এ উঠা-নামা করছিল, যা সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবে ৯৩ থাকা দরকার।
তার পরিবার আরও জানায়, চমেকের করোনা ওয়ার্ডের রেড জোনে চিকিৎসাধীন থাকা মোনায়েম খানের অবস্থার গুরুতর অবনতি হয় রোববার ভোর থেকে। খবর পেয়ে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আজম নাসিরের সহায়তায় একই হাসপাতালে তার জন্য আইসিইউর ব্যবস্থা করেবেলা ২টার পর তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
সেখানে নেওয়ার পরপরই সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান আবদুল মোনায়েম খান।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করা সহকর্মীরা নিজেদের অনুভূতি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুতে বেদনাগাথা প্রকাশ করছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় পর্যটন উদ্যোক্তা ও কক্সবাজার শহরের সচেতন সবার প্রিয় আবু সায়েম ডালিমের মৃত্যুর মতো সাংবাদিক মোনায়েম খানের অকালমৃত্যুও চরম বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করে উভয়ের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন সবাই।
