ময়মনসিংহ সড়ক দুর্ঘটনায় জন্ম নেওয়া ফাতেমার মায়াভরা চোখ কাকে যেন খোঁজে!
জিকিরের গল্প বলতে ফিরতে হচ্ছে ২০১৭ সালে। তখন ওর নাম কী ছিল। তা আজ আর জানার উপায় নেই। ছোটমণি নিবাসে আসার পর ওর নাম জিকির হয়। এর পেছনেও আছে মজার ঘটনা। তবে তার আগে পাঁচ বছর আগের সে দিনগুলোয় ফিরে যাওয়া যাক, যখন ওর মাথার চামড়ায় ফাটল ধরেছিল। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উল্টোদিকে এক নারী জিকিরের অসুস্থতা দেখিয়ে ভিক্ষা চাইত পথিকের কাছে। একজন নারী ব্যাংকার রাস্তা পার হতে গিয়ে কয়েকদিনই ব্যাপারটি খেয়াল করলেন। শিশুটির মাথার চামড়ার ফাটল বিস্তৃত হলে তিনি ভিক্ষুককে বলেন, শিশুটিকে দেন, ওর চিকিৎসা হওয়া দরকার। ভিক্ষুক বললেন, দিতে পারি, বিনিময়ে ৫০০ টাকা দিতে হবে। ব্যাংকার রেগে অফিসে গিয়ে তাঁর পরিচিত এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জানান ব্যাপারটি। পুলিশ এসে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়। দিন দুই-তিন ওই ভিক্ষুক 'আমার ছেলেকে ফেরত দাও' বলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়িয়ে হাওয়া হয়ে যায়। তারপর আর তাকে দেখা যায়নি। এরমধ্যে চিকিৎসকরা শিশুটিকে সুস্থ করে তোলেন। এখন শিশুটির পুনর্বাসন হবে কোথায়?
সরকারের সমাজসেবা দপ্তরের ছোটমণি নিবাসের কথা মনে এসে থাকবে কারুর। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী হয়ে শিশুটিকে দেওয়া হয় নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক জুবলী বেগম রানুর হাওলায়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সরকারের ছয়টি ছোটমণি নিবাস রয়েছে। ঢাকার নিবাসটি আজিমপুরে। বাকি পাঁচটি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশালে। প্রতিটিতেই আসন আছে ১০০টি। এখন ঢাকার ছোটমণি নিবাসে শিশু আছে ২৮ জন।
নিবাসে এসে জিকির কারুর সঙ্গে মিশতে পারত না, যদিও বয়স দেড় বছরের বেশি। সে সারাদিন বিছানার ওপর বসে 'আল্লাহ, আল্লাহ' করত। তাই নিবাসের কর্মীরা তার নাম রাখেন জিকির। আবার সারাদিন বিছানায় থাকলেও রাতে ঘুমাত গিয়ে চৌকির নিচে। তাকে কোলে করে যতবারই তুলে আনা হয়েছে ততবারই সে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছে চৌকির নিচে। আর সারাদিন 'কোলে নাও, কোলে নাও' বলে পিছু পিছু ঘুরত। কারণ ভিক্ষুক নারী তাকে কোলে রেখেই সারাক্ষণ ভিক্ষা চেয়ে বেড়াত। আর সে অভ্যাস জিকিরের রয়ে গিয়েছিল নিবাসে আসারও বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত। অবশ্য সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
রানু বলছিলেন, 'মানুষ আসলে এক অদ্ভুত জীব। নিজের স্বার্থ ও সুবিধাই তার কাছে প্রথম। যখন জিকির দেখল এখানে সে আগের চেয়ে ভালো খেতে-পরতে পারছে, সে ধীরে ধীরে সবকিছু আয়ত্তে নিয়ে নিল।'
ছোটমণি নিবাসে সব চলে ঘড়ি ধরে। শিশুরা ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে বিছানা ছাড়ে। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে মধুপানি খায়। সকালের নাস্তা খায় আটটায়। সাধারণত খিচুড়ি হয় সকালের নাস্তায়। তারপর তাদের কিছুক্ষণ খেলার সময় দেওয়া হয়, কেউ কেউ টিভিও দেখে। ১১টা নাগাদ তাদের পড়াতে (প্রিস্কুল) একজন শিক্ষিকা আসেন। তাদের মধ্যে বড় পাঁচজন চতুর্থতলার ডে-কেয়ার সেন্টারে গিয়েও পড়ে। দুপুর ১টায় তাদের খাবার দেওয়া হয়। ভাতের সঙ্গে মাছ বা গোশত। খেয়েদেয়ে দুই ঘণ্টা তারা ঘুমায়। বিকালে নিবাসের ছাদে দল বেঁধে খেলতে যায়। সন্ধ্যায় ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে নাস্তা খায়। নাস্তায় সাধারণত পিঠা, পুরী, মুড়ি ইত্যাদি থাকে। রাতের খাবারে থাকে ভাত-ডিম আর শোবার আগে প্রত্যেক শিশুকে এক গ্লাস করে দুধ খেতে দেওয়া হয়।
নিবাসের প্রত্যেক শিশুর জন্য সরকার ৪ হাজার টাকা মাসে বরাদ্দ দেয়। জিকিরও পেয়েছিল ওইসব সুযোগ। তাই দিনে দিনে সে ছোটমণি নিবাসের একজন সভ্য হয়ে ওঠে। জিকিরকে পরে এক সচ্ছল পরিবার দত্তক নিয়েছে।
রানু বললেন, 'আমাদের নিবাসে ২৮ জন শিশুর জন্য মাত্র তিনজন আয়া। বাবুর্চি নেই, ক্লিনার নেই। ক্লিনার এখানে খুবই জরুরি। এখানে আমরা ১ দিনের শিশু, মানে নবজাতকও রাখি। যেমন ফাতেমার কথা আপনারা শুনে থাকবেন। ফাতেমার জন্মের সময়ই সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও এক বোন মারা যায়। জুলাই মাসে ময়মনসিংহের ত্রিশালের কোর্ট ভবন এলাকায় জন্ম হয় ফাতেমার। তার হাতেও একটু চোট লেগেছিল। আমাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয় ১০ দিন বয়স যখন তার। ফাতেমার ছয় মাস হবে কয়দিন পরেই, এখন নাম ধরে ডাকলে সাড়াও দেয়। আমাদের কাছে আরেকটা শিশু আছে, যার চোখে ক্যান্সার হয়েছে। তাকে কেমো দিতে নিতে হবে। অটিস্টিক শিশুও আছে আমাদের কাছে। তিনজন আয়ার পক্ষে এতগুলো শিশুকে খাওয়ানো, পরিচ্ছন্ন রাখা, জামা পরিয়ে দেওয়া, অসুখে যত্ন নেওয়া সহজ নয় মোটেই। তাই আমরা সবাই, মানে মুদ্রাক্ষরিক, পিয়ন, উচ্চ মানসহকারী সবাই-ই সময় সুযোগ করে নিয়ে শিশুদের যত্ন নিই। আমি যেমন এই শীতে ওদের হাতে, পায়ে, বুকে তেল মেখে দেওয়ার কাজটা নিয়মিতই করি।
'আমরা যারা নিবাসের কর্মী, তারা এটাকে চাকুরি হিসাবে দেখি না। তাহলে শিশুদের লালন-পালন করা যেত না। এমনও হয় রাত দুইটায় ঘুম থেকে উঠে চলে এসেছি। কোনো শিশুর শরীর খারাপ হয়েছে, কাছের ম্যাটার্নিটি হাসপাতালে নিয়ে গেছি, ডাক্তাররা বললেন আইসিডিডিআরবিতে নিয়ে যান। সেই রাতেই অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে তাকে নিয়ে যেতে হয়েছে আইসিডিডিআরবিতে। সরকারের দেওয়া ওই ৪ হাজার টাকার মধ্যেই কিন্তু সব করতে হয়—মানে খাওয়া, পোশাক, পড়াশোনা, চিকিৎসা সব। কোনো ইমার্জেন্সি দেখা দিলে আমাদের খুব গুছিয়ে হিসাব করে পদক্ষেপ নিতে হয়।
'তবে সুখের বিষয়, আমাদের কিছু ডোনার আছেন। এদের মধ্যে আপনাদের মতো সাংবাদিকরাও আছেন। যেমন যে বাবুর্চিকে দিয়ে আমরা এখন কাজ সারছি, তার বেতন দিয়ে থাকে সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। তারা নিয়মিতই বাবুর্চির বেতন পাঠিয়ে দেয়। আবার শিশু খাদ্য বায়োমিল দিয়ে থাকে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৪-১৫ বছর ধরেই বায়োমিল সরবরাহের কাজটি নিয়মিত করে আসছে। ব্যক্তি উদ্যোগে পোশাক-আশাকও দেয় অনেকে।'
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ছোটমণি নিবাস। তবে এতদিনেও প্রতিষ্ঠানের অর্গানোগ্রাম আগের মতোই আছে। প্রতিষ্ঠার পর আর কখনও এ নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে আলাপ-আলোচনা হয়নি। তাই বাবুর্চি, নাইটগার্ড নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে কথাও ওঠেনি।
চাকুরি থেকে অবসর নিতে রানু আপার আর তিন বছর বাকি। তিনি এবার নিয়ে দ্বিতীয় দফায় ছোটমণি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুরা তাকে খালামনি বলে ডাকে, কেউ কেউ মা বলেও ডাকে। নিবাসের শিশুরা যখন কোনো পরিবারে পুনর্বাসিত হয় তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শিশুরা নিবাস ছেড়ে যেতে চায় না, রানু আপা সঙ্গে গিয়ে দত্তক নেওয়া পরিবারটিতে রেখে আসেন। তখন আবার শিশুটি তাঁকে ছাড়তে চায় না। রানু আপার কাছে জানতে চাই, কারা এখানে আশ্রয় পায়?
রানু আপা বলেন, সাধারণত ফেলে যাওয়া পরিত্যক্ত শিশুরা এখানে আশ্রয় পায়। অনেক দম্পতি আছে অর্থনৈতিক কারণে সন্তান লালন-পালনের সমর্থ থাকে না। তারা সন্তানকে সুযোগমতো কোনো একটি জায়গায় রেখে চলে যায়। আবার কিছু গর্ভবতী মা যেনতেন একটি ঠিকানা বলে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়। তারপর প্রসব সম্পন্ন হওয়ার পর সন্তান রেখে চলে যায়। আরও কিছু আছে অবাঞ্ছিত বা আনওয়ান্টেড শিশু। এসব শিশু সমাজ-অস্বীকৃত বা জবরদস্তিমূলক যৌনমিলনের ফসল। আমাদের এখানে তাই নবজাতকও দেখতে পাবেন। রাস্তায় থাকে এবং বিকারগ্রস্ত নারীও কখনো কখনো গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এছাড়া পাচারকারীদের খপ্পড়ে পড়া শিশুও আমরা লালন-পালন করি।
প্রশ্ন: শিশুরা কি তাদের পিতা-মাতার ব্যাপারে জানতে চায় না কখনোই?
রানু আপা: অনেক শিশুর পিতা-মাতাবিষয়ক ধারণাই থাকে না। সমাজে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা শিশুদের মতো মানসিক গড়ন তাদের হয় না। আর যারা পিতা-মাতার ব্যাপারটি বুঝতে পেরে আমাদের জিজ্ঞেস করে, তাদের বলি, তোমার বাবা-মা আমাদের এখানে তোমাকে রেখে গেছে, সময়মতো এসে তোমাকে নিয়ে যাবে। যখন কোনো দম্পতি দত্তক নিতে আসে তখন শিশুটিকে বোঝাই এরাই তোমার পিতা-মাতা।
প্রশ্ন আপা: এখান থেকে পরিবারে পুনর্বাসনের (দত্তক নেওয়া) হার কেমন?
রানু আপা: প্রায় শতভাগ। ছয় বছর পর্যন্ত আমাদের এখানে শিশুদের রাখার নিয়ম। যাদের বয়স ছয় বছর পেরিয়ে যায় কিন্তু পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ হয় না তাদেরকে আমরা সরকারি শিশু পরিবারে পাঠিয়ে দিই। সেখানে আঠারো বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ আছে।
প্রশ্ন: দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়া কি দীর্ঘ?
রানু আপা: পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে শিশু দত্তক নেওয়ার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় আদালত প্রক্রিয়াটির সময় কমিয়ে আনেন। তবে আদালতের কিছু প্রক্রিয়া আছে, যেমন দাখিল, সমন, জবাব, চার্জ ফ্রেম, আর্গুমেন্ট ইত্যাদির মধ্য দিয়ে যেতেই হয়।
প্রশ্ন: ফাতেমাকে কেউ দত্তক নিতে চায়নি?
রানু আপা: ফাতেমার জন্য বলা যায় লাইন লেগে গেছে। কিন্তু তার দাদা শিশুটিকে দত্তক দিতে রাজি নন। বিজ্ঞ আদালত ১৮ বছর অবধি তাকে ভরন পোষনের দায়িত্ব নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদও ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। ফাতেমাকে সহায়তার অনুরোধ জানিয়ে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খোলা হয়েছে। সেখানেও কিছু কিছু টাকা জমা হচ্ছে। ফাতেমার আরও দুই ভাই-বোন আছে। তারা দাদার কাছেই থাকে। ফাতেমার তহবিল থেকে প্রাপ্ত অর্থ পরিবারের ভরণপোষনে কাজ লাগছে বলেই হয়তো দাদা তাঁকে দত্তক দিতে চাইছেন না।
কিন্তু আমাদের বিবেচনায় ইউরোপ বা আমেরিকায় ফাতেমা দত্তক গেলে শেষে তার ভাই-বোনদেরও লাভ হতো। যেমন ফাইজা নামের এক শিশুর কথা আপনারা শুনে থাকবেন। তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল পুরানো বিমানবন্দর এলাকার রানওয়ের পাশ থেকে। কয়েকটি শিশু কাছেপিঠে খেলছিল। হঠাৎ তারা দেখতে পায় ঝোপের ভেতরে একটা কুকুর কিছু একটা কামড়ে ধরার চেষ্টা করছে। এগিয়ে যেতেই তারা রক্তমাখা এক নবজাতককে দেখে ভয়ে চিৎকার করে ওঠে। পরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কুকুরে কামড়ানোর ফলে শিশুটির ঠোঁটে ঘায়ের সৃষ্টি হয়। একটি মেডিকেল বোর্ড আন্তরিক চেষ্টায় শিশুটিকে সুস্থ করে তোলে। তারপর শিশুটিকে ছোটমণি নিবাসে তাকে নিয়ে আসা হয়। আমরা নাম রাখি ফাইজা মানে বিজয়িনী। এই ফাইজা খুব সম্ভ্রান্ত ও স্বচ্ছল এক পরিবারে পুনর্বাসিত হয়েছে। সে এখন গ্রিন হেরাল্ডে পড়ে।
এছাড়া খুব শীঘ্রই আমাদের ২টি শিশু আমেরিকায় পুনর্বাসিত হচ্ছে। আরেকটি শিশুর কথা মনে পড়ে যার খুব এলার্জির সমস্যা ছিল। তার শরীর ফুলে উঠত। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ডিমের কারণে হতে পারে। পরে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনি ল্যাকটোজ বাদ দিতে বলেন। পরে ল্যাকটোজ বাদ দিয়ে ফল মিলল। সে শিশুটি দৌড়ে আমার অফিস কক্ষে চলে আসত। আমার কোলের ওপর বসে থাকত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এক সাংবাদিক একদিন শিশুটিকে দেখে দত্তক নিতে চাইলেন এবং সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে নিজের পরিবারে নিয়ে গেছেন।
প্রশ্ন: দত্তক নেওয়া শিশুদের সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ রাখেন?
রানু আপা: কৌশলগত কারণেই আমরা বেশি যোগাযোগ রাখি না। পরিবারে যাওয়ার পর পর শিশুটি কখনও ভয় পায়, কখনও উদ্বিগ্ন থাকে। নতুন পরিবেশে খাপ খাওয়াতে কেউ কেউ বেশ সময় নেয়। এর মধ্যে আমরা যোগাযোগ রাখলে ঝামেলা আরও বাড়ে।
ছোটমণিদের আনন্দে রাখার জন্য নিবাস কর্মীরা তাদের বেড়াতে নিয়ে যান শিশু পার্ক বা লালবাগ কেল্লায়। ঘটা করে শিশুদের জন্মদিনও পালন করা হয়। তাদেরকে পুতুল, চকলেট ইত্যাদি উপহার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে ছোটমণি নিবাসেও কেক পাঠানো হয়।
এ পর্যায়ে এসে রানু আপাকে শেষ প্রশ্নটা করি, যদি সরকারের এমন একটি প্রতিষ্ঠান না থাকত তবে লোকসান কি হতো?
রানু আপা বললেন, 'দেখুন সরকার কিন্তু কোনো শিশুর লালন-পালন বা ভরণপোষণকে না করতে পারে না। বেসরকারি সংস্থাগুলো কিন্তু পারে। তারা চাইল না প্রতিবন্ধী শিশু রাখল না। তারা চাইল না, অসুস্থ শিশু রাখল না। কিন্তু সরকারের সবার দেখভালের অঙ্গীকার আছে। তাই সরকার কাউকেই ফেলে দিতে পারে না, বরং বেসরকারি সংস্থাগুলো যাদেরকে পরিত্যাগ করে তাদের শেষ আশ্রয় কিন্তু এই ছোটমণি নিবাস, নয়তো শিশু পরিবার।'
