৩৭ বছর পর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ড্র

শক্তিতে বেশ এগিয়ে, খেলাও আবার ঘরের মাঠে; ইন্দোনেশিয়া যেন বাংলাদেশকে পেয়ে বসে। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই মুহুর্মুহু আক্রমণ করতে থাকে স্বাগতিকরা। কিন্তু দেয়াল তুলে দাঁড়ানো বাংলাদেশের গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর দৃঢ়তা ও নিজেদের ব্যর্থতায় গোলের ঠিকানা পায়নি ইন্দোনেশিয়া।
ফিফার প্রীতি ম্যাচে বুধবার বাংদুংয়ে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৯ ধাপ এগিয়ে থাকা দলটির বিপক্ষে সাত বারের সাক্ষাতে দ্বিতীয় ড্র করল বাংলাদেশ।
৩৭ বছর পর দলটির বিপক্ষে ড্র করলো লাল-সবুজের দল। ১৯৮৫ সালের ২৮ এপ্রিল কায়েদে আযম ট্রফিতে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ড্র ছিল করে বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে ওটাই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য, বাকি সব ম্যাচেই বাংলাদেশের হার।
এ যাত্রাও হারও মিলতে পারতো। পুরো ম্যাচে শাসন জারি রেখে খেলে গেছে ইন্দোনেশিয়া। অবিরত আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে দিশেহারা করে তোলে তারা। কিন্তু খুব কাছে গিয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি স্বাগতিকরা। পরিষ্কার আক্রমণ সাজিয়েও বাজে শটে সুযোগ হারায় তারা। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি গোল থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান গোলরক্ষক জিকো।
বাংদুংয়ের জালাক হারুপাত সোরেং স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষের আক্রমণে কঠিন সময় পার করতে হলেও খেই হারায়নি বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ১১তম মিনিটে ইন্দোনেশিয়া প্রথম সুযোগ তৈরি করে। আসনাওয়ি ম্যাংকুয়ালামের লম্বা থ্রো-ইন থেকে ফাসরুদ্দিন হেড নেন। জিকো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দলকে রক্ষা করেন।
দুই মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে সাদ্দিল রামদানির বাঁ পায়ের জোরালো শট ফেরান জিকো। পরের মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার নেওয়া আরেকটি জোরালো শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২১তম মিনিটে সতীর্থের দারুণ পাস থেকে বল পেয়ে স্টিফেনো জানজি বক্সে ঢুকে শট নেন, কিন্তু জিকোর শরীরে লেগে বল বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশও আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে। ২৫তম মিনিটে সুযোগ পেলেও জালের ঠিকানা মেলেনি। বক্সের বাইরে থেকে রাকিব হোসেনের জোরালো শট গ্লাভসবন্দী করেন ইন্দোনেশিয়ার গোলরক্ষক। ঘাম ঝরলেও প্রথমার্ধ গোল হজম না করেই কেটে যায়।
বিরতির পরও দাপুটে ফুটবল খেলে আক্রমণ সাজাতে থাকে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ শুধু আক্রমণ ফিরিয়ে গেছে। ৪৬ মিনিটে রাসমত ইরিয়ান্তোর ক্রসে বক্সের ভিতরে ফাঁকায় বল পেয়েও লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি ইরফান জায়া।
৫৪তম মিনিটে আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু জামালের ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে সাজ্জাদ শট নিলেও গোলের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। ৬৬তম মিনিটে সাদ্দিলের ফ্রি-কিকে হেড নেন স্টিফেনো জানজি। তার হেড ফিস্ট করে দলকে বাঁচান জিকো। ৮৬তম মিনিটে মোহাম্মদ ধিমাসের নেওয়া জোরালো লক্ষভ্রষ্ট হয়।