স্বপ্ন ছোঁয়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশ ছাড়লেন বাংলাদেশের যুবারা

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরুর পর থেকে একটি আইসিসি ট্রফির আশায় বাংলাদেশ। যুবারা সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। ২০২০ যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নের মুকুট জেতে বাংলাদেশ। সেই দলের অন্যতম সদস্য রাকিবুল হাসান এবার অধিনায়ক। গত বিশ্বকাপের আরও তিন ক্রিকেটার আছেন এবারের দলে। এবারের বিশ্বকাপেও লক্ষ্য শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা। এর আগে অবশ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপে খেলবে বাংলাদেশ।
এই আসরে অংশ নিতে মঙ্গলবার রাতে আরব আমিরাতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বাংলাদেশ যুব দল। এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে রাত সাড়ে আটটায় রওনা করেন রাকিবুল, তানজিম, নাবিলরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিমানবন্দর সমন্বয়ক ওয়াসিম খান।
আরব আমিরাতে ২৪ ডিসেম্বর নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এশিয়া কাপের মিশন শুরু হবে বাংলাদেশের। এই আসর শেষে বিশ্বকাপে অংশ নিতে দুবাই থেকেই ২ জানুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাবেন বাংলাদেশ যুবারা। দীর্ঘ সময় জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা এবং টানা খেলা থাকায় ভ্রমণে অতিরিক্ত দুজন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশ ছেড়েছেন মোট ১৭ ক্রিকেটার।
এবারের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় ছিলেন না রাকিবুল হাসান ও তানজিম হাসান সাকিব। কিন্তু ঘরের মাঠে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা সফরে প্রত্যাশামাফিক ফল না আসায় ভারত সফরে ৩ দলের টুর্নামেন্টে তাদের নিয়ে শক্ত দল গড়া হয়। এই সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এ ছাড়া দলে নেওয়া মেহরব হাসান ও প্রান্তিক নওরোজ নাবিলকে। এই চারজনই বাংলাদেশের হয়ে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে খেলবেন।
যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলেও এশিয়া কাপের মুকুট জেতা হয়নি বাংলাদেশের। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত আসরটির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে হেরে রানার্সআপ হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আকবর আলীর দলকে। এবারও সেই অপূর্ণতা ঘোচাতে চায় বাংলাদেশ।
দেশ ছাড়ার আগে ওপেনার ইফতেখার হোসেন ইফতি বলেন, 'আমাদের দল অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। ইনশা আল্লাহ এশিয়া কাপে এবার চ্যাম্পিয়ন হব। আগে কখনই চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। সবার অনেক বিশ্বাস আছে, চ্যাম্পিয়ন হব।
প্রান্তিক নওরোজ নাবিল বলেন, 'বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে এশিয়া কাপের মতো টুর্নামেন্ট সহায়ক হবে। এশিয়া কাপে ভালো ভালো দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারব। আর এই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।'
যুব এশিয়া কাপ ২৩ ডিসেম্বর শুরু হবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২৪ ডিসেম্বর নেপালের বিপক্ষে। এরপর ২৫ ডিসেম্বর কুয়েত ও ২৮ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়বে রাকিবুল হাসানের দল। বাংলাদেশের সব ম্যাচই শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। দুবাই পৌঁছে একদিন কোয়ারেন্টিন করে পরদিন থেকে অনুশীলন করতে পারবে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ফাইনাল হবে ৩১ ডিসেম্বর। বিশ্বকাপে অংশ নিতে ২ জানুয়ারি সেখান থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে রওনা দেবে বাংলাদেশ।