অধিনায়কত্ব ছেড়ে যা বললেন মাশরাফি
লম্বা ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা একটি অংশ। যে অংশে পুরো দলকে পথ দেখানোর দায়িত্ব ছিল কাঁধে। সেই দায়িত্ব মাথা থেকে নামিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডের অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। অধিনায়কত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে কী কী বলেছেন মাশরাফি, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
মাশরাফির ঘোষণা….
কাল অধিনায়ক হিসেবে আমার শেষ ম্যাচ। আমার প্রতি এত দীর্ঘ সময় আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ। ধন্যবাদ জানাই আমার নেতৃত্বে যারা খেলেছে বাংলাদেশ দলে, তাদেরকে। আমি নিশ্চিত যে গত ৫-৬ বছরের এই যাত্রা সহজ ছিল না। টিম ম্যানেজমেন্ট যারা ছিল, যাদের অধীনে আমি খেলেছি বা আমি অধিনায়কত্ব করেছি, তারা সবাই আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে।
আমি এর আগে দুই-তিন দফা অধিনায়কত্ব পেয়েছি। কিন্তু ইনজুরির কারণে করতে পারিনি। আমার অধিনায়কত্ব হাথুরুসিংহের সময় শুরু হয়েছে। পরে হাথুরুসিংহে, খালেদ মাহমুদ, স্টিভ রোডস এবং ডমিঙ্গো দিয়ে শেষ হচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডের স্টাফ থেকে শুরু করে যারা আছেন, তাদের ধন্যবাদ সহযোগিতার জন্য।
আমি মিডিয়ার সবাইকে ধন্যবাদ জানাই সহযোগিতা করার জন্য। সব শেষে বাংলাদেশের সমর্থক, ভক্তদের আমি ধন্যবাদ জানাই।
আমি আনুষ্ঠানিকভাবে কালকের ম্যাচের মাধ্যমে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি আমার শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে। আমি চেষ্টা করব আমার সেরাটা দেওয়ার, যদি আমার সুযোগ আসে। আমার শুভ কামনা থাকবে পরবর্তী সময়ে যে অধিনায়ক হবে তার জন্য। বাংলাদেশ পরের ধাপে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যদি আমি দলে থাকি তাহলে চেষ্টা করব নতুন অধিনায়ককে আমার মধ্যে যা আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার। ধন্যবাদ সবাইকে।
সিদ্ধান্তটা কি বোর্ডের?
না, সিদ্ধান্তটা আমিই নিয়েছি।
পরবর্তী অধিনায়ক…
কারও নাম বলা তো কঠিন। এটা অবশ্যই বোর্ডের সিদ্ধান্ত যে কে হবে। সিনিয়র যারা আছে, সাকিব তো বাইরে; যারা আছে, সে প্রক্রিয়াটা কী আমি জানি না। সাকিব আসার পর কী হবে বা প্রক্রিয়াটা কী জানি না। আমি নিশ্চিত যে বাকি তিনজন যারা আছে, তাদের অধিনায়কত্ব করার সক্ষমতা আছে। বোর্ড সেরা একজনকে বেছে নেবে।
অধিনায়কত্ব বাছাইয়ের পরিকল্পনা…
অধিনায়কত্ব জিনিসটাকে আমি কখনোই এমন গুরুত্বের জায়গায় আনিনি। আমি গর্বিত যে আমি জাতীয় দলের হয়ে খেলি বা খেলেছি। অধিনায়কত্ব আমাকে বিসিবি সুযোগ দিয়েছে, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কখনো হয়েছে, কখনো হয়নি। সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার তা তো নিতেই হবে।
সামনে বিশ্বকাপ আছে ২০২৩ সালে, যেহেতু সবাই বলছিল, পরিকল্পনা আমাদের করতে হবে। আমি চাই নতুন কেউ এখনই আসুক, দল গুছিয়ে নিক। আমি আশা করব যেটা পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেটা যেন ঠিক থাকে। ২০২৩ সালের জন্য সেরা অধিনায়ক বেছে নিতে হবে।
ক্যারিয়ারের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
আমার ক্যারিয়ারটাই তো অনেক আগে শেষ হয়ে যেতে পারত। যতটুকু পেয়েছি, আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, এতটুকু আসতে পেরেছি। প্রাপ্তির বিষয়টা আসলে এখনই বেছে নেওয়া কঠিন। অপ্রাপ্তি খুব সহজেই বলতে পারা যায়। অনেক অপ্রাপ্তি আছে, সেটাও আমার কাছে প্রাপ্তি; কারণ, একটা আবহে কখনো জীবন চলে না। ভালো- খারাপের ভেতর দিয়েই যেতে হয়। আমার ক্ষেত্রেও ওটাই হয়েছে।
সত্যি কথা বলতে আমি এই দায়িত্বকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে চেষ্টা করেছি। এখন তো প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি আপনারা যারা আছেন বা দর্শকরা- তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমি এগুলো আলাদা করার চেষ্টা করিনি কখনো।
সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রসঙ্গে…
আপনি যদি বাইরে চিন্তা করেন, সবাই ভাবছে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নতুন অধিনায়ক আনার সময় হয়েছে। আমার কিন্তু ভাবা উচিত, আমি মনে করি। আমার ভাবা উচিত ছিল। ভাবার চেষ্টা করলেও আমি অত ভাবতে পারি না। আমি আসলে অত ভাবিনি।
আজকে সকালে মনে হয়েছে যে যথেষ্ট হয়েছে। সত্যি বলতে আজকে সকালেই মনে হয়েছে। কালকেও কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ছিলাম না। আজকে সকালেই মনে হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তবে এটা সত্যি যে কথাগুলো আমাকে নিয়ে হচ্ছিল, সেটা অবশ্যই আমার জায়গায় আপনি হলেও এটা আপনাকে ভাবাবে। এটা অবশ্যই সাধারণ প্রক্রিয়া।
পরবর্তী অধিনায়ককে নিয়ে কাজের প্রক্রিয়া…
যে কথাগুলো হয়েছে, আমি আশা করব এই কথাগুলো যেন শক্ত থাকে। পরের অধিনায়ক কিন্তু ২০২৩-এর, এমন না যে এক বছরের জন্য। হুট করে যেন খারাপ করলেই কাউকে যেন বাদ না দেওয়া হয়। যেটা বাংলাদেশে হচ্ছে। সেটা হলে কিন্তু আমাকে নিয়ে যে প্রক্রিয়া চালু হয়েছে, সেটাতে শক্ত থাকা হলো না।
আমি বিশ্বাস করি আমি সিদ্ধান্তটা পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিয়েছি। আমি আশা করব যারা পরের অধিনায়ক নিয়ে যে পেশাদারিত্বে আলোচনা করেছে, সেটা যেন ধরে রাখে। অধিনায়ককে ভালো-খারাপ মিলিয়ে যথেষ্ট সময় দিয়েই যেন ২০২৩ বিশ্বকাপ চিন্তা করা হয়।
অধিনায়ক হিসেবে লক্ষ্য পূরণ প্রসঙ্গে….
পৃথিবীর কেউই বলতে পারবে না যে সে পরিপূর্ণ করে গিয়েছে। আমি বললাম যে প্রাপ্তির কথা আমি বলতে পারব না। অপ্রাপ্তির কথা মানুষ চোখ বন্ধ করেই বলে দিতে পারে। আসলে ব্যর্থতাগুলো কী ছিল। আমি আসলে জানি না প্রাপ্তি কি ছিল বা অপ্রাপ্তি। এতোটুকু বলতে পারব যে, আমাকে যখন জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করতে দেয়া হয়, তখন আমি জানতাম এটার দায়িত্ব কত বেশি। এখানে চাপ বেশি। এখানে কত আবেগ জড়িয়ে আছে। কত মানুষ তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশের খেলায়। বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য বসে থাকে। ওই দায়িত্বের গুরুত্ব আমার কাছে যেকোনো কিছুর চাইতে বেশি। সেই জায়গা থেকে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছি।
অভিমান আছে কি না?
আপনারা সবসময় যদি এসব বের করতে চান, তাহলে খারাপ। আমি আগেই বলেছি যে অভিমান বা রাগ দেখানো বা ক্ষোভ দেখানো- এগুলো কেন দেখাব? অনেকের থাকে বা থাকে না। অনেকে বলতে পারে। এরকম সামনে বলার আমি তো না। আর সত্যি বলতে অভিমান না। আমাকে একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আপনাদের সামনেই বললাম, আমি শেষ। এটা এখানেই শেষ।
এর মধ্যে যা কিছুই হয়েছে মতের পক্ষে বা বিপক্ষে, সবকিছু নিয়েই কিন্তু এই পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, তাহলে আমাকেও সেটা বলেছে তারা যে ঠিক আছে। সামনের ম্যাচে ঠিক করতে হবে। আবার আমার কাছেও যদি কিছু খারাপ লেগে থাকে, আমিও সেভাবে বলেছি। যেকোনো কম্বিনেশনে এভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।
বাকিটা পথ কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে?
প্রথম বিষয়টা হচ্ছে আপনি যদি ঘুম থেকে উঠে দেখেন আপনার সামনে নাস্তা রাখা, আপনি আবার শুয়ে থাকলেন, টিভি দেখলেন, দুপুরের খাবারটা রাখা হলো। বিকেলে একটু ঘুরে আসলেন। সন্ধ্যায় আবার নাস্তা দেওয়া হলো। রাতে ডিনার রেখে গেল, তাহলে আপনার জীবনের মূল্যটা কী থাকল? কিছুই থাকল না; তো মানুষ হিশেবে প্রত্যেকটা কাজই চ্যালেঞ্জিং।
আমি উপভোগ করি সব যখন বিপক্ষে থাকে। এটাই আমার জীবনের উপভোগের অংশ। সবকিছু যখন পক্ষে থাকে, তখন আমার কাছে মনে হয় জীবনের মূল্য কিছুই না। সবকিছু যখন আপনার জীবনের বিপক্ষে থাকবে, তখন আপনি কতটুকু সামনে যেতে পারেন, তখন আপনি নিজের সার্থকতা বা চ্যালেঞ্জের মুখে আনতে পারবেন। সেটা আপনার পরিবার বা আপনার সাথে যারা থাকে তাদের জন্য একটা শিক্ষা হতে পারে। এছাড়া আপনি আরামেই জীবনটা পার করলেন।
সিদ্ধান্তের কথা পরিবারকে জানানো প্রসঙ্গে…
এসব টেকনিক্যাল বিষয়ে পরিবারকে আমি কিছু বলি না। ভালোলাগার জায়গা সবসময় থাকে- ছেলে ভালো করছে বা পরিবারের কেউ ভালো করছে। খারাপ তো লাগেই এভাবে যে তার খারাপ হচ্ছে। এটা তো খারাপ লাগবেই। আমার কথাটা আমি শুধু বাসায় ফোন করে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি যে, 'ডান'। তারা শক্তভাবেই আমার পাশে আছে। টি-টোয়েন্টি থেকে যাওয়ার সময় তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছিল। তারা ঠিক সেভাবে আমার পাশে আছে।
অধিনায়কত্ব পালনকালে মধুর স্মৃতি…
অবশ্যই অনেক ভালো স্মৃতি আছে, অনেক অনেক ভালো স্মৃতি। একজন অধিনায়ক হিসেবে, একজন মেম্বার হিসেবে টিমের। তবে অধিনায়ক হিসেব যে অংশটা- সেখানে ভালো স্মৃতি যেমন আছে, খারাপ স্মৃতিও আছে, যেগুলো আমরা খেলোয়াড়রা 'বিয়ার' করি সবসময়।
আমার পাশে সবসময় খেলোয়াড়েরা ছিল, সমর্থন দিয়েছে। কোচেরা ছিল, মানে 'ফিগার আউট' করা কঠিন আসলে- কোন জায়গাগুলো...। অনেক মুহূর্ত যেগুলো হয়তো তখন দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে কঠিন বা অবিশ্বাস্য, হবে কি না? কিন্তু তারপরও হয়েছে। আবার এমনও আছে যেগুলো কেউ চিন্তাই করছে না যে বাংলাদেশ টিম এটা পারবে না; কিন্তু আমরা পারিনি। তো, দুই জায়গায়ই আছে।
পরবর্তী অধিনায়কের বিষয়ে মাশরাফির ভাবনা…
এটা প্লেয়ারের সিদ্ধান্ত না, আসলে বোর্ডের সিদ্ধান্ত। যখন মুশফিকের হাত থেকে আমি পেয়েছি, তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। এটা মুশফিকের হাতে না। এখন আমি যখন যাচ্ছি, আমি বলব, আমাদের সিনিয়র ক্রিকেটার আছে। তারা কিন্তু 'ক্যাপাবল'।
এটা বোর্ডের ভাবনা যে এখন থেকে যাকে দিলে আমাদের টিম এখান থেকে আরেক ধাপ উপরে যাবে, তাদের সাথে আলোচনা করে যদি আনা হয়, সেটাই ভালো। তবে এই মুহূর্তে যারা সিনিয়র আছে, সবাই 'ক্যাপাবল'। এখন দেখার বিষয় কাকে বিসিবি দেয়; এটা বিসিবির ব্যাপার।
সবচেয়ে কষ্ট...
সব চেয়ে কষ্টের ছিল ভারতের কাছে যখন ১ রানে হারলাম বিশ্বকাপে। ওই রাতটা আমি না শুধু, পুরো দলের জন্যই বীভৎস ছিল। আমরা সবাই হোটেলে এসে করিডরে বসে ছিলাম। ওইটা আমার কাছে মনে হয় অধিনায়ক হিসেবে প্লেয়ারদের দেখে খুবই খারাপ লেগেছে।
তার পরও অনেক চ্যালেঞ্জিং পিরিয়ড গিয়েছে; লাস্ট বিশ্বকাপ অবশ্যই। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমরা টুর্নামেন্টে টিকে ছিলাম; কিন্তু যেভাবে বের হয়ে এসেছি- ওটা টাফ ছিল। তবে এই যে বললাম, অধিনায়ক হিসেবে তো একটা ম্যাচে যেই থাকে, প্ল্যান করে জেতার জন্য। কিন্তু সেটা না হলে... বাংলাদেশ যেকোনো ম্যাচ হারাটাই তো, 'ইনডিভিজুয়ালি' আমি বলব প্রত্যেকটা হারই আমার জন্য কঠিন ছিল।
টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে...
দেখেন, আপনাদের সামনে এসে আমার লাইফে যা হয়েছে বা কে কি বলেছে- দোষারোপ করার অভ্যাস এটা আমার 'ইসের' ভেতর পড়েই না। আপনি যেভাবে বলেছেন, আমি একটু ঘুরাইয়া এটা বলতে পারি যে, অবশ্যই ডিফিকাল্ট ছিল। সময়মতো মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়া, আমি মনে করি সময় দেওয়া উচিত। আমি সিউর যে কেউ একমত হবে। কারণ আপনি যখন একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে ১৫ বছর, কারণ এটা তো এক-দুই বছরের ব্যাপার না। আমি যেহেতু ১৫-১৮ বছর বা খেলাটা আমি ২০ বছর ধরে খেলি।
আমি সবসময় বলে আসছি, খেলাটা আমার লাইফ না, তবে লাইফের বড় একটা পার্ট। আজকে আমি এখানে বসে আছি তা খেলার জন্য; জীবনের সর্বোচ্চ যা কিছু অর্জন করেছি সব এই খেলার জন্যই। এটা আমার জীবনের অনেক বড় একটা অংশ।
তো, এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাকে বা যেকোনো খেলোয়াড়কে যে ৫ দিন খেলেছে- তার ক্ষেত্রেও যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাকে মিনিমাম একটা সময় দিতেই হবে আপনাকে। তো, সিদ্ধান্তগুলো কঠিন অবশ্যই আমি আপনাকে বলব। কিন্তু এর পেছনে কারও জড়িত থাকা বা কোনোকিছু আছে কি না- সেটা আমি আমার প্লেয়িং লাইফে আলোচনায়ই আনতে চাই না। যদি কোনোদিন আলোচনায় আনতে চাই, আপনারা অবশ্যই জানতে পারবেন।
বোর্ড, ভক্তদের সামলানো প্রসঙ্গে…
যেভাবেই হোক আমি বলব যে তারা আমাকে হেল্প করেছে; যেভাবেই হোক। আর যে কঠিন প্রক্রিয়ার কথা আপনি বললেন, সেটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। যদি মাইকটা সরায়া দেন, হয়তো থলি খুলে বসা যাবে- এটা সত্য কথা। কিন্তু এটাও সত্যি কথা, সহযোগিতা করে না ভালো সময়ে- তাও না। আপনি যখন ভালো করবেন, একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনাকে আস্থা দেখাবে, আস্থা রাখবে।
দেখেন, সবাই, আসলে আমি একজন প্লেয়ার বা অন্যরাও সিউর এটাই ভাবে যে এটা একটা বড় দায়িত্ব। আমরা যখন নামি, তখন কিসের জন্য নামি? বাংলাদেশের জন্য নামি। যখন আমার ভুল ধরা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে আমি কিন্তু প্রটেস্ট করতে পারি না। মনে হয় যে, হয়তো-বা আমি ভুলই করেছি। কিন্তু এটা যদি আমার পরিবারের জন্য হতো যে, পরিবারের জন্য মাঠে নামছি, তাহলে হয়তো আমি প্রতিবাদ করতে পারতাম। কিন্তু নামটা যখন 'বাংলাদেশ' নিয়ে নামি, আসলে তর্কের জায়গা থাকে না।
কারণ এটা অনেক বড় দায়িত্ব; সবারই আবেগ জড়িয়ে আছে; সবারই মতামত থাকে, দিচ্ছে। সুতরাং এটা ফেলে দেওয়ার সুযোগ থাকে না। যারা অ্যাক্টিং করে, মানে আমরা যারা অ্যাক্টিং করি- তাদেরই কিন্তু মাথা নত করে থাকতে হয়।
দেখেন, আলোচনা-সমালোচনা প্লেয়ারদের নিয়ে হয় যে, আমরা সহজেই বলে ফেলি- এখন ও 'ইয়ে' হয়ে গেছে; এখন আর ডিসিপ্লিন নাই বা অনেক কিছু। দেখেন, আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ ছোটভাইরা বিশ্বকাপ জিতে আসল; এরা কি কেউ এসে আপনাদের সামনে বা মিডিয়ার সামনে বা অন্য কোথাও কি বলেছে আমরা অনেক বড় কিছু করেছি? এরা কিন্তু বাচ্চা ছেলে। এরা কি একজনও বলেছে?
কিন্তু আপনি দেখবেন এরা যখনই ন্যাশনাল টিমে 'পিক' হবে বা অনূর্ধ্ব-১৯ আরেকটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাবে বা এশিয়া কাপ খেলতে গিয়ে 'ফেইল' হলে হয়তো-বা এই আলোচনাটা শুরু হয়ে যাবে- এরা হয়তো 'এই' হয়ে গেছে, 'সেই' হয়ে গেছে, এই জন্য 'এটা' হয়েছে, 'ওটা' হয়েছে।
প্লেয়াররা তো এটা চায় না যে আপনারা আমাদের খুব বড় করে ফেলেন, আমাদের বাবা মায়ের কাছে আপনারা বা অন্য কেউ গিয়ে বলে যে- আসেন, আমার বাবা মায়ের সাক্ষাৎকার নেন। এগুলো আপনারাই করেন বা অন্য কেউ। আসলে এসব পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে গিয়ে একটা প্লেয়ারকে খেলতে হয়। কেউ কিন্তু এসব পয়েন্ট আউট করে না। তারপরও এসব কিছুই মেনে নিতে হবে। এটাই প্রক্রিয়া, এটাই বাস্তবতা।
আমি মনে করি, আমাদের পরিবারের অনেক দায়িত্ব আছে এসব ক্ষেত্রে যে, এখনো ছেলের ভালো সময় যাচ্ছে, খুব স্বাভাবিক সবাই আছে। কিন্তু যখনই খারাপ সময় আসবে, এই জিনিসগুলোই উল্টে যাবে। সিম্পল তাসকিনের উদাহরণ দেই। যখন ৫ উইকেট পাইলো ডেব্যু ম্যাচে আর এখন তাসকিনকে ঠিক 'অইসব' কারণেই বলা হচ্ছে- তাসকিন ডিসিপ্লিনড না বা অন্য কিছু। তো, আমি এটাই বলতে চাচ্ছি, তখন পরিবারেরও অনেক দায় দায়িত্ব থাকে। তো, এটার উত্তর আমি আসলে অন্যভাবে আর দিতে পারব না।
দেশের বাইরে অধিনায়ক হিসেবে মর্যাদা পাওয়া প্রসঙ্গে…
আর আপনি যেটা বললেন দূতের মতো, আমি আসলে যখন খেলোয়াড় হিসেবে শুরু করেছি, তখনো এটা 'ফিল' করিনি। যখন অধিনায়ক হয়েছি, তখনো এটা মনে করিনি; আবার যখন... আমার তো আরেকটা পরিচয়, আমি এমপি- সেটাও আমি ফিল করিনি।
কারণ রেড পাসপোর্ট নিইনি, আমি গাড়ি নিইনি, বাড়ি নিইনি, কিছুই নিইনি। সো, আমি আসলে এসব থেকে সবসময় দূরে থাকতেই পছন্দ করেছি। আমি যখন অধিনায়ক হওয়ার আগ পর্যন্ত আমার সম্ভাব্য সবকিছুই কিন্তু ছিল এই চেয়ারকে ঘিরে। যে, আমি যত ভালো করব বা যতকিছুই করব- এই চেয়ারটা আস্তে আস্তে আমার কাছে আসতে থাকবে।
যখনই আমি চেয়ারটা পেলাম, তখনই ওটা শেষ লেখা হয়ে গেছে। তখন এই চেয়ার পাওয়ার কিন্তু আমার আর আকাঙ্ক্ষা নাই। চেয়ারটার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা উচিত আমার 'পজিটিভ ওয়ে'তে। 'রেদার দ্যান' প্রভাবটাকে অন্যভাবে ব্যবহার করার চাইতে। আমি জিনিসটাকে এভাবে দেখি।
