মুক্তিপণের দাবিতে জিম্মি চীনের অন্যতম শীর্ষ ধনী
গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করা হয় এমন ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য বিক্রি করেই শত শত কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক হয়েছেন চীনা ধনী হে জিয়াংগিজান। ৭৭ বছরের এই শীর্ষ ধনী চীনের বিশ্ববিখ্যাত হোম আপ্লাইয়েন্স ব্র্যান্ড- মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা। অথচ গত রোববার কিনা তাকেই স্বপরিবারে মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করেছিল একদল দুর্বৃত্ত।
এই ঘটনার শেষ হয়েছে চরম নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং কর্তৃপক্ষ জানায়, জিম্মিকারীদের চোখে ধুলো দিয়ে জিয়াংগিজানের ছেলে একটি নদী সাঁতরে পার হন, এরপর স্থানীয় পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে মুক্ত হন জিয়াংগিজানসহ পরিবারের বাকি সদস্যরা। ধরা পড়ে জিম্মিকারীর দল। মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে এই অপরাধ সংগঠিত করার কথা তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।
মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিয়াংগিজান ফোর্বস ম্যাগাজিনের করা বিশ্ব সেরা ধনীর তালিকায় ৪৫তম স্থানে রয়েছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪শ কোটি ডলারের বেশি। রোববার তিনি পরিবারসহ চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়াংডংয়ের ফুসান শহরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় পাঁচজন দুর্বৃত্তের ওই দল সেখানে হানা দিয়ে তাদের বন্দি করে।
এব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে চীনের সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র পিপলস ডেইলি পত্রিকার মালিকানাধীন দৈনিক সিক্যিউরিটিজ টাইমস জানায়, সাহায্য চেয়ে একটি ফোনকল পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তৎপর হয়। পুলিশের কাছে আসা ওই ফোনকলে আক্রমণকারীরা বিস্ফোরক বহন করছে এমন দাবিও করা হয়েছিল।
ফুসান পুলিশের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অপহৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করে, সেখানে শুধু 'তাকে' মুক্ত করা হয়েছে এমন কথা বলা হয়। অবশ্য, পরবর্তীতে সামাজিক গণমাধ্যম ওয়েইবোতে মিডিয়া গ্রুপের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পুলিশকে ধন্যবাদ জানানো হয়। ওই সূত্রেই হে জিয়াংগিজান যে অপহৃত হয়েছিলেন সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মিডিয়ার বিবৃতির পর চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল সিজিটিএন জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে পুলিশের কাছে ফোনকল আসে। কলটি করেছিলেন মিডিয়া গ্রপ প্রতিষ্ঠাতার ছেলে- হে জিয়ানফেং।
তিনি পুলিশকে জানান, জুনলান ইন্টারন্যাশনাল গলফ লাইফ ভিলেজ এলাকায় অবস্থিত তাদের ব্যক্তিগত বাড়িতে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ঢুকে পড়েছে এবং সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।
এখবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয় প্রাদেশিক নিরাপত্তা বাহিনী এবং নগর পুলিশ। তাদের যৌথ অভিযানে কোনো রক্তপাত ছাড়াই জিম্মিদের মুক্ত করা সম্ভব হয়। ফুসান নগর পুলিশ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
১৯৬৮ সালে মিডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হে জিয়াংগিজান। কোম্পানিটি বাসাবাড়ি ও অফিসের জন্য শীতাতম নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার্য নানা ধরনের ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদন করে। ২০১৯ সালে মিডিয়ার বাৎসরিক আয় ছিল ৩৩শ' কোটি মার্কিন ডলার।
