গরিব শ্রমিকদের ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে মোদির দুঃখপ্রকাশ
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপর করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব পড়েছে। তবে গরীব মানুষরা যে কষ্ট পেয়েছেন, তা ভাষায় ব্যক্ত করা যাবে না। এমন কথা বললেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গতকাল রোববার তার জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান 'মান কি বাতে' অংশ নিয়ে মোদি জানান, ভারতে এমন শ্রেণীর কোনও মানুষ নেই, যারা মহামারির জেরে সমস্যার সম্মুখীন হননি। তবে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গরিব মানুষেরা।
মোদির কথায়, 'তবে সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন দরিদ্র এবং শ্রমিকরা। তাদের কষ্ট, তাদের যন্ত্রণা এবং যে দুঃসহ কঠোর পরীক্ষা তারা পাড়ি দিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
সমস্যার সম্মুখীন সেই মানুষদের সাহায্যে ব্যক্তিগতস্তরে এবং যে সংস্থাগুলি এগিয়ে এসেছে, তাদেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন মোদি। বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ভারতীয় রেল বিভাগের কথা। যানবাহন চলাচলের সীমাবদ্ধতার মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতায়াত নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। এসময় থেকেই রেল বিভাগ তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে। এই উদ্যোগের তারিফ করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
নিজের মাসিক অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, 'কেন্দ্র, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রশাসন সবাই সারা দিন-রাত কাজ করছে। যেভাবে সারাক্ষণ আমাদের রেলকর্মীরা লাখ লাখ পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষিতভাবে বাড়ি ফেরাচ্ছেন, খাবারের বন্দোবস্ত করছেন, প্রতিটি জেলায় কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র সামলাচ্ছেন, নমুনা পরীক্ষার ও প্রত্যেকের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করছেন তাতে একদিক দিয়ে তাঁরাও সামনের সারির করোনা যোদ্ধা। এইসব চেষ্টাগুলি ক্রমাগত চলছে এবং বৃহৎ আকারে (হচ্ছে)।'
ভারতে টানা তিন মাসের লকডাউন চলাকালে অগণিত দরিদ্র খেতে খাওয়া মানুষ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরে কাজ করতে আসা শ্রমিকেরা ব্যাপক দুর্দশার শিকার হন। লকডাউনের পর আয় রোজগারহীন হয়ে পড়ায় এমসয় বাড়ি ফিরতে অনেকেই পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন শত শত কিলোমিটার। মারাও যান অনেকে। সেসময় বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে লকডাউনের মাঝে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে না ভাবায় কেন্দ্রীয় সরকারের তুমুল সমালোচনা করা হয়।
